বিসিএলের পঞ্চম রাউন্ডে ইনজুরি নিয়ে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করলেন মোসাদ্দেক

ক্রিকেট খেলাধুলা

সদ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজের বাদ পড়ার খবর শুনেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আর গতকাল ব্যাট হাতে ক্রিজে চোটগ্রস্ত মোসাদ্দেক হাঁকান অনবদ্য সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরিটা তিনি করেছেন ইনজুরি নিয়ে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ইনজুরির তালিকাটা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। এরই মধ্যে ইনজুরির কারণে বিসিএল থেকে ছিটকে পড়েছেন তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসির হোসেন, মুশফিকুর রহীম। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

বিসিএলের পঞ্চম রাউন্ডে ফিল্ডিং করতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। কাঁধের ইনজুরি নিয়েও হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরি। আট নম্বরে নেমে খেলেছেন ১০৭ বলে ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ম্যাচের শেষদিনে ডানহাতি এ ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে মধ্যাঞ্চলের সঙ্গে ড্র করেছে দক্ষিণাঞ্চল।

রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে বিসিএলের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে দ্বিতীয় দিনে ফিল্ডিং করার সময় কাঁধে চোট পান মোসাদ্দেক। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামেন ব্যথা নিয়েই। আট নম্বরে নেমে ১০ চার ও চার ছক্কায় সাজান তিন অঙ্ক ছোঁয়া ইনিংসটি। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার দুদিন পর ব্যাটেই জবাব দিলেন এ তরুণ। প্রথম ইনিংসে ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চল মোসাদ্দেক অপরাজিত থাকেন ২১ রানে। জবাবে মধ্যাঞ্চল তোলে ৩০২ রান। ১১১ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ মিঠুন ও মোসাদ্দেকের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেট হারিয়ে ৪৮৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণাঞ্চল। পরে ৩৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল মধ্যাঞ্চল ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান তোলার পর ড্র হয়ে যায় ম্যাচটি। আবদুল মজিদ ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪৩ রান করেন ওপেনার সাইফ হাসান। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট পাওয়া আবদুর রাজ্জাক দ্বিতীয় ইনিংসে নেন তিন উইকেট। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের এ বাঁহাতি স্পিনার।
গতকাল রাতেই ঢাকায় ফিরে কাঁধের এক্স-রে করা হয় মোসাদ্দেক হোসেনের। তার এই রিপোর্টের পরেই বোঝা যাবে ইনজুরির সর্বশেষ অবস্থা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণাঞ্চল প্রথম ইনিংস: ১৯১
দক্ষিণাঞ্চল দ্বিতীয় ইনিংস: ১০৮.৩ ওভারে ৪৮৪/৮ ডিক্লে (এনামুল ৪৫, ইমরুল ৩০, তুষার ৮৮, মিঠুন ১১৮, নুরুল ১৪, জিয়াউর ২৫, মোসাদ্দেক ১০২*; নাঈম হোসেন ৪৩*; আবু হায়দার ২/৮০, এবাদত ১/১০১, মোশাররফ ৩/১১০, তানবীর ২/৮৫,।
মধ্যাঞ্চল প্রথম ইনিংস: ৩০২
মধ্যাঞ্চল দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৫ ওভার ১৫৮/৫ (সাইফ হাসান ৪৩, সাদমান ইসলাম ১৮, আবদুল মজিদ ৬০*, মার্শাল আইয়ুব ১৬, মোশারফ হোসেন ১২*; রাজ্জাক ৩/৭৩, নাঈম হাসান ১/৫৩ রাব্বি ১/২৮)
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যাচসেরা: আবদুর রাজ্জাক (দক্ষিণাঞ্চল)