বোলার হয়ে ওঠার রহস্য জানালেন মেহেদী

ক্রিকেট খেলাধুলা

মেহেদী হাসানের প্রথম দুই বলে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম মাত্র এক রান নিয়ে স্ট্রাইকিংয়ে দেন ক্রিস গেইলকে। ক্যারিবিয়ান তারকা তার প্রথম বলেই গেলেন ভড়কে। সাদা চোখে এলবিডাব্লিউ নিশ্চিত, তাই জোরালো এলবিডাব্লিউর আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আম্পায়ার বলে দিলেন ‘না’। তাতে থেমে যাননি মেহেদী। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের এই স্পিনার তার প্রথম দুই ওভারে একটি করে রান দেওয়ার পর তৃতীয় ওভারে পেলেন ম্যাককালাম ও শাহরিয়ার নাফীসের উইকেট। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভর করে শনিবার গেইল-ম্যাককালামের রংপুর রাইডার্সকে হারায় কুমিল্লা। এ জয়ের পর সাড়া ফেলে দিয়েছেন ‘বোলার’ মেহেদী। ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি বোলার হওয়ার রহস্য জানালেন তিনি।

২০১৬-১৭ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ভালো খেলে সবার নজর কাড়েন মেহেদী। জ্বলে ওঠেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচেই। মেহেদীর ৮৯ বলে ১০৩ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ভর করে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে জয় পায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। দলটির কোচ ছিলেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি এবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচিংয়ের দায়িত্বে আছেন। তিনিই মূলত বদলে দিয়েছেন মেহেদীকে।

মেহেদীর বোলার হয়ে ওঠার পেছনে পুরো অবদানই কোচ সালাউদ্দিনের। বাংলা ট্রিবিউনকে মেহেদী বলেছেন, ‘আসলে আমাকে বোলার বানানোর পেছনে তার (সালাউদ্দিন) অবদান অনেক। আসলে শুধু বোলার নয়, যতটুকু এসেছি সেটার জন্য পুরো অবদানই তার। আমি সত্যিই ভাগ্যবান তার মতো একজন কোচ পেয়েছি।’

রংপুরের বিপক্ষে মেহেদীকে নিয়ে কোচ সালাউদ্দিন আগেই পরিকল্পনা করেছিলেন। ম্যাচের দুইদিন আগেই জানতে পারেন, একাদশে তিনি থাকবেন। এরপর থেকেই ঘুম উধাও তরুণ এই অলরাউন্ডারের, ‘গত দুই দিন থেকেই শুনছিলাম ম্যাচটাতে আমি খেলব। সেটা শোনার পর থেকেই আমার ঘুম আসছিল না। শুধু ভাবছিলাম, কীভাবে গেইল-ম্যাককালামদের বিপক্ষে বোলিং করব।’

এমনকি রাতের ঘুম বাদ দিয়ে ইউটিউবে গেইল-ম্যাককালামদের ভিডিও পর্যালোচনা করতে গিয়ে অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। দুর্বলতা খুঁজতে গিয়ে কোনও দুর্বলতা পাননি বলে হতাশ হয়েছিলেন। আত্মবিশ্বাসটা তলানিতে ঠেকে গিয়েছিল মেহেদীর, ‘গেইল-ম্যাককালামের বিপক্ষে বোলিং করতে হবে। চিন্তা করতেই ভয় লাগতো। রাতে ইউটিউবে ভিডিও দেখছিলাম। সেখানে ওদের কোনও দুর্বল জায়গাই খুঁজে পাইনি। ওরা সব বলই ছয়-চার মারে! সকাল বেলা স্যারকে বলছিলাম, স্যার ওদের তো দুর্বল জায়গা নেই, আমি পারব না!’

এমন কথা শুনে নিশ্চিতভাবেই রাগ হওয়ার কথা সালাউদ্দিনের। হয়েছেনও তাই। মেহেদীর কথা অনুযায়ী কুমিল্লার কোচের বক্তব্য ছিল, ‘ঠিক আছে। তাহলে তোর খেলা লাগবে না।’ পরক্ষণেই মেহেদীর পাল্টা উত্তর, ‘না, না আমি পারব।’

মাঠে নেমে দেখিয়ে দিয়েছেন, তিনি পেরেছেন। যাদের নিয়ে উদ্বেগে কেটেছে, তাদের একজনের উইকেট পেয়ে খুশিতে আত্মহারা মেহেদী। গেইল ও ম্যাকালামকে থামাতে মেহেদীকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছিলেন সালাউদ্দিন। গুরুর পরিকল্পনা শিষ্য জানতেন বলেই লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন। তাতে আংশিক সফল হলেও ভীষণ খুশী এই তরুণ, ‘ম্যাককালামের উইকেট পেয়েছি। গেইলের উইকেট পেলে ভালো লাগতো। আমার লক্ষ্য ছিল এই দুটি উইকেট। তারপরও ভালো লাগছে।’

বলা যায়, কুমিল্লার একাদশে জায়গা পাকা করে ফেলেছেন মেহেদী। অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজার প্রশংসা সেটাই বলছে, ‘ঘরোয়া লিগে সে ভালো বল করেছে। তার অভিজ্ঞতা ভালো আছে। সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল ম্যাচ। সেখানে স্ট্রাইকিংয়ে থাকা গেইল-ম্যাককালামের বিপক্ষে ভালো বল করেছে। বিশেষ করে প্রথম স্পেলে সে খুব ভালো করেছে।’