বোলিংয়ে নতুন অস্ত্র নিয়ে দলে আসছেন এই তারকা পেসার!

ক্রিকেট খেলাধুলা

যতই দিন যাচ্ছে সংক্ষিপ্ত ফরম্যটের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানরা ততই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।  পিছিয়ে নেই বোলাররা ব্যাটসম্যানদের কাবু করতে বোলিংয়ে নানান ভেরিয়েশন নিয়ে আসছে বোলাররা।  স্লোয়ার, কাটার, ইয়র্কার, স্লো ইয়র্কার, স্লো বাউন্সার এসব নামের সাথে মোটামুটি সবাই পরিচিত।  তবে সম্প্রতি নতুন এক বোলিং অস্ত্র নিয়ে আলোচনা ক্রিকেট মহলে।  যার নাম ‘নাকাল বল’।  গত বিগ ব্যাশে অস্ট্রেলিয়ান পেসার অ্যান্ড্রু টাই এই ‘নাকাল বল’ ব্যবহার করে হয়েছেন বিগ ব্যাশের সেরা বোলার।

পেয়েছেন আইপিএলে ডাক।  কিছু দিন আগে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফিতে ভারতীয় বোলার বিজয় শঙ্কর ‘নাকাল বল’ ব্যবহার করে ভুগিয়েছন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের।  স্লোয়ার ডেলিভারির জগতে এক অভিনব সংযোজন এই নাকাল বল।  নাকাল বল গ্রিপের ধারণাটা এসেছে মূলত বেসবল থেকে।  ক্রিকেটে নাকাল বলের প্রবর্তক মনে করা হয় সাবেক প্রোটিয়া ফাস্ট বোলার চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টকে।  তবে সর্বপ্রথম ভারতীয় বোলার জহির খানের হাত ধরেই এই অভিনব ডেলিভারির সুত্রপাত।  ২০১১ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মাইক হাসি এবং ফাইনালে চামারা কাপুগেদারাকে একই ধরনের চমৎকার দুটো `নাকাল বল` দিয়ে আউট করেছিলেন জহির।  নাকাল বলের গ্রিপিংয়ের কায়দাটা বড়ই অদ্ভুত।  কিছুটা অস্বাভাবিকও বটে।  সিম আপ বোলিংয়ের প্রচলিত নিয়মানুসারে, একটা বলকে গ্রিপ করতে হয় সোজা অবস্থায় আঙুলের অগ্রভাগের সাহায্যে।  কিন্তু নাকাল বলের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আঙুল সোজা রাখার পরিবর্তে বলটাকে ধরা হয় আঙুল ভাঁজ করা অবস্থায় (ক্রুকড ফিঙ্গার) `নাকাল` কিংবা `ফিঙ্গার জয়েন্ট` দ্বারা।  এখানে নাকলের সাহায্যে বলকে শক্তভাবে স্কুইজ করা হয় অর্থাৎ চেপে ধরা হয়।  বর্তমান সময়ে এই ‘নাকাল বল’-এ সবচেয়ে বেশি সফল ভারতীয় ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহ।  সাবেক অজি গতি দানব ব্রেট লির কাছ থেকে নাকাল বলের তালিম নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ।  বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সাবেক পেসার তালহা জুবায়েরের কাছ থেকে নাকাল বলের তালিম নিচ্ছেন।  এ ব্যাপারে তাসকিন বলেন, ‘ডিপিএলে আমার পাওয়া ১৬ উইকেটের মধ্যে ১০টি পেয়েছি নাকাল বলে।  এখনো আমি সম্পূর্ন আয়ত্ত করতে পারিনি।  অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছি আশা করি ভালো ফল পাবো।  ভবিষ্যতে ম্যাচে আমার ‘নাকাল বল’ দেখতে পাবেন।  ’ তাসকিনের গুরু তালহা জুবায়ের বলেন, ‘ও (তাসকিন) অনুমীলন চালিয়ে যাচ্ছে।  এটা আয়ত্ত করতে পারলে ওর জন্য খুব ভালো হবে।  আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।  জুনিয়রদেরকে এই বলের কৌশল শিখানো হবে  ’ প্রসঙ্গত, গত এক বছর যাবত খুব ভালো সময় যাচ্ছে না তাসকিনের।  দলে নিয়মিত হতে মরিয়া তাসকিন তাই বোলিংয়ে নানা বৈচিত্র্য নিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।