ভর্তি অনিশ্চিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দিনমজুর শাকিলের!!!

বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা বজরের খামার গ্রামের মৃত আব্দুস ছামাদের ছেলে শাকিল আহমেদ। সংসারের দায়িত্ব মা শেফালী বেগম ও ছেলে শাকিল আহমেদের। শাকিল জীবন-বাঁচার তাগিতে মানুষের বাড়ি বাড়ি দিনমজুরের কাজ করে সংসারের পাশাপাশি নিজের লেখা পড়া চালিয়ে যেতেন। মাঝে মধ্যে মা শেফালী বেগমও মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। মা ছেলের সংসারে অভাব লেগে থাকতো। শাকিল দিন মজুরীরে কাজ করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজে ভর্তি হতে পারবে কি-না দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া মেধাবী ছাত্র শাকিল আহমেদ। বিধবা মা শেফালী বেগমও অন্যের বাড়িতে দিন মজুরির কাজ করেন। দিন মজুর বাবা পাঁচ বছর আগেই না ফেরার দেশে চলে যান। তারা মা ছেলে কোনো রকমেই খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের সংসার। সে ফুলবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। দারিদ্রতার সীমাহীনতা তাকে আটকাতে পারেনি পড়ালেখা থেকে দূরে রাখতে। শুধুমাত্র ৮ শতক জমিতে তাদের বসবাস।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মা শেফালী বেগম ও ছেলে শাকিল আহমেদ অন্যের বাড়িতে ধান মারাইয়ের কাজে ব্যস্ত। শাকিল বলেন, ‘লজ্জা করে লাভ নেই। ঘরে খাবার নেই বাবা বড় ভাই কেউ নেই আমার। কে আমাদের দেখবে! কে আমাদের খাওয়াবে। তাই দু-মুঠো খাবারের জন্য এই অল্প বয়স থেকেই মানুষের বাড়িতে কাজ-কাম করি। মা আমাকে সব ধরনের উৎসাহ দিয়েছে। মায়ের দোয়ায় আমি এই ফল পেয়েছি। আমার টাকা পয়সা নেই। জানিনা ভাল কলেজে ভর্তি হতে পারবো কি না।’

শাকিলের ঘরে কোনো অর্থ না থাকায় ভাল কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইচ্ছা থাকলেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ভেস্তে বসেছে শাকিল আহমেদের। অভাবের তাড়নায় হতাশ। তাই সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা] চেয়েছেন শাকিল।