ভারতের সামাজিক মাধ্যমে খিচুড়ি নিয়ে চলছে তুলকালাম কাণ্ড

আন্তর্জাতিক

ঝড়-বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে পছন্দ করেন না- এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। তবে বৃষ্টি মৌসুম ছাড়াও খিচুড়ি পছন্দের অনেকের। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নানাভাবে খিচুড়ি খাওয়ার চল রয়েছে। কিন্তু সেখানে খিচুড়ি শুধু এখন খাবার পাতে মুখরোচক মেনু হিসাবে নেই। খিচুড়ি নিয়ে এখন ভারতের সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে চলছে জোর আলাপ। সামাজিক মাধ্যমে অনেক ভারতীয়র পোস্ট এবং কমেন্ট চলছে খিচুড়িকে ঘিরে।

ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই মুহূর্তে দিল্লিতে চলছে ‘ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়া’ নামে একটি ইভেন্ট। তারই অঙ্গ হিসাবে নামজাদা শেফ সঞ্জিব কাপুর দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে আট শ’ কেজি খিচুড়ি রান্না করে একটা বিশ্ব রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করবেন ৪ নভেম্বর।

তাকেই কেদ্র করে কয়েকদিন আগে খবর রটে যে খিচুড়িকে ভারতের জাতীয় খাদ্য হিসাবে ঘোষণা করা হচ্ছে। তার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে উঠেছে মন্তব্যের ঝড়, চলছে নানা রসিকতা।

যদিও ভারতের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী হরসিমত কৌর বাদল টুইট করে জানিয়েছেন, খিচুড়িকে জাতীয় খাদ্য হিসাবে ঘোষণা করার কোনো পরিকল্পনাই সরকারের নেই।

“কাল্পনিক জাতীয় খাদ্য নিয়ে অনেক খিচুড়ি পাকানো হয়েছে। একটা বিশ্ব রেকর্ড গড়ার জন্য খিচুড়িকে বেছে নেয়া হয়েছে,” টুইটারে লিখেছেন হরসিমত কৌর বাদল।

খিচুড়ি রান্না বা হিন্দিতে ”খিচুড়ি পাকানোর” একটা অন্য অর্থ আছে। সবকিছু মিলিয়ে মিশিয়ে ফেলারই মোটামুটি হিন্দি অর্থ ”খিচড়ি পাকানা” বা খিচুড়ি রান্না করা।

মন্ত্রীর মন্তব্যের পরেও খিচুড়ি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ”খিচড়ি পাকানা” বন্ধ হয়নি, আলোচনা, ব্যঙ্গ, রসিকতা চলছেই। আর সেগুলোর বেশিরভাগেরই টার্গেট বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রাজ্য গুজরাতের একটি প্রধান খাদ্য হল খিচুড়ি।

কী ধরণের মন্তব্য করছেন ফেসবুক-টুইটার ব্যবহারকারীরা?

কংগ্রেসের মুখপাত্র সঞ্জয় নিরুপম টুইট করেছেন, “খিচুড়ি আমার প্রিয় খাবার। কিন্তু এটাকে জাতীয় খাদ্য বলে ঘোষণা করার পর কেউ যদি খিচুড়ি খেতে অস্বীকার করে, তাহলে কী তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা হবে?”

ইঙ্গিতটা স্পষ্টতই বিজেপির দিকে।

আকবর আন্ধেরা নিউজ নামে এক টুইট ব্যবহারকারী আরো সরাসরিই হিন্দুত্ববাদীদের কটাক্ষ করেছেন।

“খিচুড়ির নাম পাল্টে করা হোক দীনদয়াল উপাধ্যায় ক্ষুধা নিবারণী পদার্থ।”

দীনদয়াল উপাধ্যায় আরএসএসের এক প্রথমসারির নেতা ও হিন্দুবাদের প্রবক্তা ছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকার তার ভাবনা চিন্তা নিয়মিতভাবেই প্রচার-প্রসার করে থাকে।

কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের জাতীয় সভাপতি ফিরোজ খান মন্তব্য করেছেন, “প্রথমে তো দেশের অর্থব্যবস্থাকে অসুস্থ করে দেয়া হল আর এখন খিচুড়ি খাইয়ে তার স্বাস্থ্যোদ্ধারের চেষ্টা হচ্ছে।”

খিচুড়ি নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখনই রান্নার গ্যাসের দাম বেশ বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার নিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানিগুলো।

তা নিয়ে এক টুইট ব্যবহারকারী প্রত্যুষ মায়াঙ্ক লিখেছেন, “উন্নয়নের তো খিচুড়ি বানানো হয়েই গেছে। কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৪ টাকা বাড়িয়ে দিলে জনগণ খিচুড়িটা বানাবে কী করে?”

রাজনৈতিক মন্তব্য ছাড়াও ব্যঙ্গ আর রসিকতাও চলছে খিচুড়ি নিয়ে।

আরওএফএল ইন্ডিয়ান নামের টুইট ব্যবহারকারী লিখেছেন, “খিচুড়িকে যদি জাতীয় খাদ্যের মর্যাদা দেয়া হয়, তাহলে ঘি, দই, পাপড় আর আচারকে এক্ষুণি জাতীয় বন্ধুর স্বীকৃতি দিতে হবে।”

গরম খিচুড়িতে একটু ঘি আর সাথে পাপড় – আচার – অনেকের কাছেই এর থেকে উপাদেয় খাবার আর কিছু নেই!

চালু হয়ে গেছে খিচুড়ি নিয়ে হ্যাশট্যাগও। ভানারমুখি ওই হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন, ”খিচুড়ি সব থেকে সুস্বাদু খাদ্য।”

সিনেমা হলে জাতীয় সঙ্গীতের সময়ে সবার উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক বলে সরকার যে নির্দেশ দিয়েছিল, আদালত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সম্প্রতি।

খিচুড়ি প্রসঙ্গেও এসেছে তা নিয়ে তির্যক মন্তব্য।

“খিচুড়ি যখন জাতীয় খাদ্য, সেটা খাবার সময়ে কি আমাকে উঠে দাঁড়াতে হবে?” প্রশ্ন রঙ্গা ইউনি নামে এক টুইট ব্যবহারকারীর।

সূত্র : বিবিসি