ভোক্তা অধিদফতরে মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে ৬০০ অভিযোগ

অপরাধ ও দুর্নীতি বাংলাদেশ

ভোক্তা অধিদফতরে গ্রামীণ ফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেলসহ দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে ৬০০টিরও বেশি অভিযোগ এসেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সোমবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর টিসিবি ভবনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ১৬তম সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে রবি, গ্রামীণ, এয়ারটেল ও বাংলালিংকের বিরুদ্ধে কলড্রপসহ নানা ধরনের অভিযোগ এসেছে। কোনও কোনও অভিযোগে তাদের জরিমানাও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে কোম্পানিগুলোর কেউ কেউ হাইকোর্টে রিট করেছে।’

ভোক্তা অধিকার সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোন অপারেটর রবিকে ৬টি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর তারা হাইকোর্টে রিট করে। চলতি সপ্তাহে সে বিষয়ে শুনানি হতে পারে। এছাড়া বাংলালিংকও একটি রিট করেছে, সেটাও তদন্তাধীন। তবে গ্রামীণ ফোনকে জরিমানা করা হলেও তারা কোনও রিট করেনি।

সভায় বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন ছিল উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘২০১৫-১৬ অর্থবছরে শ্রীলঙ্কায় ৫০ হাজার টন চাল রফতানি করেছি। নেপালে ভূমিকম্প হওয়ার পর তাদের ১০ হাজার টন চাল সাহায্য করেছি। কিন্তু হঠাৎ বন্যার কারণে উৎপাদনে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।’

বর্তমানে থাইল্যান্ড, ভারত ও নেপালসহ অনেক দেশেই গড়ে প্রতিকেজি চালের মূল্য ৪০ টাকার ওপরে এমন তথ্য দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশে চাল রফতানি করবে না, এমন সংবাদের কারণে দেশে চালের দাম বেড়েছে। নতুবা বাড়তো না। এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। তবুও চালের দাম এখন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমিও একসময় এক টাকায় চাল কিনেছি। কিন্তু এখন কি তা সম্ভব? কারণ মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে। একসময় ডলারের দাম ছিল ৪ টাকা ৭৩ পয়সা। এখন তা ৮০ টাকা।’ তবে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানিকারক, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী সবার সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হয় বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

ভোক্তারা যত বেশি সচেতন হবে তত কম ঠকবে উল্লেখ করে ভোক্তা অধিকার সংগঠনের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘বিক্রেতা বা উৎপাদনকারী ওজনে কম দেয়, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেয়। কিন্তু ভোক্তারা সচেতন হলে এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন।’

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আাকরাম উদ্দিন বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটি আরও শক্তিশালী করে এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।’

এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ‘তৃণমূল পর্যায়ে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে’ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোক্তাদের আরও সচেতন করতে থিম সং তৈরি করে তা শিগগিরই গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে ভোক্তাদের না ঠকাতে পারে সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১০ সালে ভোক্তা অধিদফতরের কার্যক্রম চালু হয়। ওই বছর মাত্র ৭৩টি অভিযোগ করেছিলেন ভোক্তারা। আর চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে অভিযোগ জমা পড়েছে ৩ হাজার ৮৯টি। যাচাইবাছাই করে এসব অভিযোগের শতভাগই নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এছাড়া কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৭৫ হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে তদারকি কার্যক্রম চালিয়েছে ভোক্তা অধিদফতর। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৩৩ হাজার ২২৮টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা আদায়ের পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ২২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এরমধ্যে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী ২ হাজার ৪৭০ জন অভিযোগকারীকে ২৫ শতাংশ হিসেবে ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫২ টাকা প্রদান করা হয়। অবশিষ্ট ২২ কোটি ৮৮ লাখ ৫১ হাজার ৪৪৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসুসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।