মালয়েশিয়ার মোবাইল ফোনে হ্যাকারদের হানা

আন্তর্জাতিক প্রধান খবর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মালয়েশিয়ায় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের কোনো তথ্যই আর গোপন নেই। দেশটিতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনায় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের সব তথ্য চুরি হয়ে গেছে। চ্যানেল নিউজ এশিয়ার খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ার প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখের বেশি মোবাইল ফোন সিমের তথ্য চুরি হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, দেশটির মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ১২ লাখ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যাকাররা গ্রাহকদের মোবাইল নাম্বার, ইউনিক ফোন সিরিয়াল নাম্বার এবং বাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা হাতিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার একাধিক সরকারি ও বাণিজ্যিক ওয়েবসাইট থেকেও তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা।

এমন ঘটনার পর দেশটির তথ্য প্রযুক্তি পর্যবেক্ষক সংস্থা এমসিএমসি (Malaysian Communications and Multimedia Commission) এখন তদন্ত করে দেখছে।

মালয়েশিয়া যে তথ্য ফাঁসে ফেঁসে গেছে, প্রথম তা সামনে আনে দেশটির প্রযুক্তিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লোইয়াট ডট নেট।  সংবাদমাধ্যমটি তাদের অনলাইনে জানায়, কেউ একজন বিট কয়েকের বিনিময়ে ব্যক্তিগত তথ্যের বিশাল এক ভাণ্ডার বিক্রি করতে চাইছে। যে ভাণ্ডারে মালয়েশিয়ার অন্তত ১২টি টেলিফোন অপারেটরের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য আছে।

প্রতিবেদনে অপারেটরদের নামও প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি। বলা হয়, ম্যাক্সিস, ডিজি, অ্যালটেল, সেলকম, পিএলডিটি, রেডটোন, টিউনটক, মার্চেন্টট্রেড এশিয়া, ইউমোবাইল, এনএবলিং এশিয়া, ফ্রেন্ড মোবাইল ও এক্সওএক্স ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি হয়ে গেছে।

লোইয়াট ডট নেট আরও জানায়, মালয়েশিয়ার মেডিকেল কাউন্সিল, মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাকাডেমি অফ মেডিসিন, হাউজিং লোন অ্যাপ্লিকেশনস, ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল স্পেশালিস্ট রেজিস্টার এবং জবস্ট্রিট ডট কম থেকেও সব তথ্য চুরি হয়ে গেছে।

সংবাদ সংস্থাটি জানায়, তারা গত ১৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ার তথ্য প্রযুক্তি পর্যবেক্ষক সংস্থা এমসিএমসিকে বিষয়টি অবহিত করে। শুরুতে এমসিএমসি তাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদনগুলো সরিয়ে নিলেও পরদিন ফেইসবুকে এক বিবৃতিতে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আর গেল সোমবার সংস্থাটি জানায়, দেশের সব মোবাইল ফোন গ্রাহকই তথ্য ফাঁসের আওতায় রয়েছেন। মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদে রাখতে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য!

তথ্য ফাঁসের ঘটনার পর এমসিএমসি’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ডক্টর মাজলান ইসমাইল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে দেশের সব টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। আইনী পদক্ষেপ নেওয়ারও চিন্তা করা হচ্ছে।’

তবে তথ্য ফাঁসের এমন ঘটনায় মালয়েশিয়ার ৩ কোটি ১২ লাখ মানুষই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।