মাশরাফির রহস্য জানালেন গেইল!

ক্রিকেট খেলাধুলা

বিপিএলের সোমবারের (২০ নভেম্বর) দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে ৭ রানে জয় পেয়েছে রংপুর রাইডার্স। টানা তিন ম্যাচে হারের পর জয়ের মুখ দেখল মাশরাফি নেতৃত্বাধীন দলটি।

ম্যাচটিতে রংপুরের দেয়া শক্ত টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৫ রানেই মাথায় গুনাথিলাকাকে হারিয়ে বসে সিলেট। তারপর বাবর আজমকে রবি বোপারার ক্যাচ বানিয়ে আউট করেছেন রংপুর দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। ১২ রান করা আন্দ্রে ফ্লেচারকে মোহাম্মদ মিথুনের ক্যাচ বানিয়ে আউট করেছেন রুবেল হোসেন। এরপর আপনমনে লড়াই করে যান সাব্বির ও নাসির। দুজন মিলে ১২০ রানের জুটিও গড়েন। কিন্তু শেষ অবধি পেরেরার বল উঠিয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ম্যাককালামের হাতে ধরা পড়েন সাব্বির।

রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফীর একটি ওভারেই বাঁক নিয়েছে ম্যাচ। বিফলে গেছে সাব্বির-নাসিরের অনবদ্য এক জুটি। সিলেট সিক্সার্সের দরকার তখন ৪ ওভারে ৩৫ রান, হাতে ৭ উইকেট। শতরানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন সাব্বির-নাসির। মাশরাফীর ওই ওভারটিতে নিতে পারলেন মাত্র ২ রান। পরে বল হাতে পেরেরা-রুবেলরাও জাগলেন। রান আটকে হারতে বসা ম্যাচ ৭ রানে জিতে নেয় রংপুর। আর শেষ ওভারে সিলেটের দরকার ছিল ১৯। নাসির থাকার পরও এলো মাত্র ১১ রান।

সবাই অপেক্ষা করছিল হঠাৎ ম্যাচে বাঁক এনে দেয়া মাশরাফীই আসবেন সংবাদ সম্মেলনে। কিন্তু এলেন ম্যাচসেরা ক্রিস গেইল। ৫০ রানের ইনিংস খেলে ১৬৯ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে দেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটিংদানব। তবে নিজের ব্যাটিংয়ের চেয়ে সাব্বির-নাসিরের ১১৭ রানের জুটি নিয়েই কথা দীর্ঘ করলেন তিনি। আর অল্প কথায় বুঝিয়ে দিলেন মাশরাফীর ম্যাজিক ওভারটির গুরুত্ব।

‘ওই ওভারটিই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বলতেই হবে নাসির ও সাব্বির দারুণ ব্যাট করেছে। দলকে জয়ের অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। ওদেরকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর ওরা ভালোভাবে টেনেছে দলকে। তবে আমাদের বোলাররা শেষদিকে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে। অধিনায়কের এক ওভারে মাত্র ২ রান দেয়া ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এরপর রুবেল ও থিসারা দারুণভাবে শেষ করেছে।’

ম্যাচটিতে শেষের তিন ওভারে মূলত আসল ভেলকি দেখায় রাইডার্সের বোলাররা। মূলত তাদের কৌশলী বোলিংয়ের কাছে পরাস্ত হয় সিলেট। ম্যাচটা হতে পারত সাব্বির-নাসিরেরই। শেষটায় এসে কেবল পারেননি। শুরুতেই টপঅর্ডারে ধসের পর দুজনে যেভাবে খেলেছেন, তাতে বাহবা তো প্রাপ্যই! বিপিএলের চতুর্থ উইকেট জুটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান না আনতে পারলে যে ম্যাচটা এমন জমে ওঠে না, সুযোগ হয় না মাশরাফীর ম্যাজিক ওভারটি দেখার।