মাহফুজ কেন ‘কাঁচা’ সিগারেট খেয়েছিলেন?

বিনোদন

হ‌ুমায়ূন আহমেদ নির্মিত কয়েকটি নাটক আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ। তাই জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিককে নিয়ে স্মৃতির ব্যাংক ভরাট তাঁর। কদিন আগে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে মেলে ধরেন সেই স্মৃতি। জানালেন, ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিক নাটকে শহীদুজ্জামান সেলিম যে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, সে চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল মাহফুজ আহমেদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সেই চরিত্রের জন্য হ‌ুমায়ূন আহমেদ তাঁকে গাড়ি চালানো শিখতে বলেন। শর্ত অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ভবনের রাস্তায় নিয়মিত গাড়ি চালানো শেখা শুরু করেন মাহফুজ। তাঁর গাড়ি চালানোর ‘প্রশিক্ষক’ ছিলেন আরেক অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু। কিন্তু অল্প সময়ে গাড়ি চালানো শিখতে ব্যর্থ হন মাহফুজ আহমেদ। ফলে যা হওয়ার তা-ই হলো।

সে সময়ের স্মৃতি মনে করে মাহফুজ আহমেদ বললেন, ‘অল্প সময়ে গাড়ি চালানো না শিখতে পারায় চরিত্রটা পেলেন শহীদুজ্জামান সেলিম ভাই। কিন্তু স্যার আমাকে নিরাশ করেননি। এলাকার পাতি মাস্তান ‘মতি’ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেন আমাকে। আমি তো দারুণ খুশি। ওই নাটকের একটা দৃশ্যে আমি বদি ভাইকে (আবদুল কাদের) অপমান করি। পরে বাকের ভাইয়ের (আসাদুজ্জামান নূর) সামনে পড়ে যাই। আমাকে ধরে সিগারেট খাওয়ানো হয়।’

‘কোথাও কেউ নেই’ যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের নিশ্চয় মনে আছে, মাহফুজ আহমেদ সেই সিগারেট খেয়েছিলেন ঠিকই, তবে সেটা ‘কাঁচা’। মানে আগুন না ধরিয়েই। সেই দৃশ্যর শুটিংয়ের কথা মনে করে মাহফুজ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি স্যারকে বললাম, একটা ডামি সিগারেট দিয়ে দৃশ্যটা করি। মানে সিগারেটের মতো দেখতে কিছু একটা খাই। স্যার বললেন, ‘না, আসল সিগারেটই খেতে হবে। কোনো ডামিটামি চলবে না।’ স্যারের কথা অনুযায়ী সেদিন আসল সিগারেট খেয়েছিলাম। আগুন না ধরিয়ে কাঁচা সিগারেট খাওয়া যে কী কষ্ট, সেটা সেদিন বুঝেছি। তখন আমার সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস তো দূরের কথা, গন্ধ পর্যন্ত সহ্য করতে পারতাম না।’

তবে একবার সিগারেট খেয়েই দৃশ্যটি শেষ হয়েছিল এমন নয়। মাহফুজ জানালেন, কয়েক দফায় দৃশ্যটি নেওয়া হয়। স্যারের মনের মতো না হওয়া পর্যন্ত করতে হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি ‘কাঁচা’ সিগারেট খেতে হয়েছে এ অভিনেতাকে।