মিসবাহ উল হকের নেতৃত্বে চিটাগাং ভাইকিংসের যেমন সম্ভাবনা

ক্রিকেট খেলাধুলা

গেল চারটি আসরের একটিতেও শিরোপা জিততে পারেনি চট্টগ্রাম কিন্ত প্রতিবারই তাদের বেশ সম্ভাবনা থাকে ভালো করার। বিপরীতে বিপিএল ২০১৭ তে সাধারণ দলই গঠন করেছে ভাইকিংস। দলটিতে নেই ঘরের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। গতবার খেলা ক্রিস গেইলও এবার অন্য দলে।

চট্টগ্রাম এবার প্রচার প্রচারনায় এবং ক্রিকেটারে অন্য দলগুলোর থেকে অনেক পিছিয়ে। অধিনায়ক নির্বাচনেও বেশ সময় নিয়েছে ভাইকিংস, সৌম্য আইকন হিসেবে অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মিসবাহ এর মতো অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও ক্রিকেটারকে অবজ্ঞা করতে পারেনি ভাইকিংস, শেষে বুড়ো মিসবাহ উল হকের হাতেই নেতৃত্বের বাটন তুলে দেওয়া হয়েছে।

আগামীকাল দুপুর ১.০০ ঘটিকায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মুখোমুখি হবে ভাইকিংস। কুমিল্লা তারকাবহুল দল। যদিও পাকিস্তান ক্রিকেটার এখনো যোগ দেয়নি বিপিএলে এবং কুমিল্লার কোন পাকিস্তানি ক্রিকেটারও আসেনি, তথাপিও গত ম্যাচে সেরা একদশই মাঠে নামিয়েছিলল কুমিল্লা, কিন্তু শেষ ওভারের নাটকীয়তায় হারতে হয় ভিক্টোরিয়ান্সদের।

এবারের চট্টগ্রামের টিম নিয়ে হতাশ চট্টগ্রামের সমর্থকরা। ভালো করার সম্ভাবনা দেখছেন না তারা। তবে ইতিমধ্যেই সিলেট মোটামুটি দল নিয়েই টানা দুই ম্যাচে জয়লাভ করেছে, এটিও অনুপ্রেরণা হতে পারে ভাইকিংসদের জন্য। তাছাড়া বড় কোন তারকা ক্রিকেটার না থাকলেও দলটিতে আছে দিলশান মোনাবিরা, ডওসন, মিসবাহ, লুইস রেইস, ব্যান জিল, নাজিবুল্লাহ জদরান, লুক রঞ্চি ও সিকান্দার রাজার মতো ক্রিকেটার। সাথে মিসবাহ এর অভিজ্ঞ অধিনায়কত্বের কারিশমা তো থাকছেই।

টি২০ ক্রিকেটে বড় মুখ গুলো প্রয়োজন হলেও দিন শেষে মাঠে পারফর্ম করাই শেষ কথা, যেমন সিলেটের থারাঙ্গা টি২০ ক্রিকেটে পাওয়ার হিটার নয়, কিন্তু তিনিই দলকে দুই ম্যাচে জিতিয়েছেন, দিন শেষে মাঠে ভালো করাটাই শেষ কথা। মোনাবিরা, ডওসন, মিসবাহ, লুইস রেইস, ব্যান জিল, নাজিবুল্লাহ জদরান, লুক রঞ্চি ও সিকান্দার রাজারা এটা করতে পারলেই জয় সম্ভব। সেই সাথে সৌম্য সরকার, এনামুল বিজয়, তাসকিন, তানভীর হায়দার, সোহরাওয়ার্দী শুভ, আলাউদ্দিন বাবু আল আমিন, শুভাশিষ, সানজামুলরা মিলে সেরা ক্রিকেট খেলবেন বলেই প্রত্যাশা সবার।

টি২০ ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক দলগুলোর মধ্যে সামর্থ্যরে তফাৎ থাকলেও লীগের টি২০ দলগুলোতে তেমন একটা থাকে না, ভালো ক্রিকেটার কম বেশী থাকলেও সব ক্রিকেটারেরই ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য থাকে, প্রয়োজন জ্বলে উঠার।

পাওয়ার হিটার না হয়েও উপল থারাঙ্গা সেরা ব্যাটিং করেছেন, অপর দিকে টি২০ ক্রিকেটের সুপার পাওয়ার পোলার্ড, দু ম্যাচেই ব্যর্থ হয়েছেন। তাই সাধারণ ক্রিকেটারদের অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই, মাঠে পারফর্ম করতে পারাটাই শেষ কথা।

মিসবাহ বুড়ো বলে অনেকেই তাকে নিয়ে তেমন আশাবাদী না। কিন্তু সবাইকে মনে রাখতে হবে, মিসবাহ টি২০ ক্রিকেটেই তান্ডব চালায় বেশি। টেস্টেও আছে তার বিস্ফোরক সেঞ্চুরী, তাছাড়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেরট ধকল না থাকায় নির্ভার হয়েই খেলবে মিসবাহ। সাথে বুদ্ধিদিপ্ত অধিনায়কত্ব দিয়ে চট্টগ্রামকে সেরা চারে কিংবা ফাইনালে উত্তীর্ণ করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।