মুম্বাইয়ের প্রথম জয়, হারের বৃত্তে কোহলিরা

ক্রিকেট খেলাধুলা

২১৪ রানের বড় লক্ষ তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনে বেঙ্গালুরু। ডি ককের সাথে ওপেনিংয়ে অধিনায়ক কোহলি।কোহলি শুধু ওপেনার নয় গোটা দলের দায়িত্বটা যেন তিনি একাই নিলেন। দলের প্রায় ৫৬ শতাংশ রান এসেছে কোহলির ব্যাট থেকে।

৬২ বলে ৭ চার ৪ ছক্কায় ৯২ রান করেও এদিন রাজা হতে পারেননি কোহলি রবং খেলেছেন যেন পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে।কোহলির দিনি বেঙ্গালুর বাকিরা ছিল আসা যাওয়ার মিছিলে।ম্যাচের পঞ্চম ওভারে  ‍মিচেল ম্যাকক্লেনাঘানের জোড়া আঘাতে সাজঘরে ফিরে বেঙ্গালুরুর দুই হার্ড হিটা ডি কক ও ডি ভিলিয়ার্স।মানদীপ সিং কিছুটা সঙ্গ দিলেও ক্রনাল পান্ডিয়ার ঘূর্ণি জাদুতে ভেঙে যায় কোহলির দলের মিডল অর্ডার। টেলেন্ডারদের নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্কোর বোর্ডে ১৬৭ রান তোলে বেঙ্গালুরু। মুম্বাইয়ের ৪৬ রানে জয়ের দিনে বিবর্ন ছিলো মোস্তাফিজ। ৪ ওভার বল করেন ৫৫ রান খরচায় কোন উইকেট পাননি বাংলাদেশি এই পেসার। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে এর আগে কখনো এতটা খরুচে ছিলেন না মোস্তাফিজ। মুম্বাইয়ের হয়ে ক্রনাল পান্ডিয়া ৩টি, বুমরাহ ও ম্যাকক্লেনাঘান ২টি করে উইকেট নেয়।ম্যাচ সেরার পুরষ্কার পায় মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

  • ৪ ওভারে ৫৫ রান দিয়েছেন মোস্তাফিজ, নিজের টি-২০ ক্যারিয়ারে সবচেয়ে খরুচে বোলিং ফিগার। 
  • কোহলির অপরাজিত ৯২ রানেও হার এড়াতে পারেনি বেঙ্গালুরু।
  • ৫২ বলে ৯৪ করে মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত।
  • আসরে মুম্বাইয়ের প্রথম জয়।
  • বেঙ্গালুরুর টানা তিন পরাজয়।
  • আসর সর্বোচ্চ ২১৩ রান করে মুম্বাই 

এর আগে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ঐতিহাসিক ওয়াংখেড় স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে। কোন রান করেই উমেশ যাদবের করা ইনিংসের প্রথম দুই বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরেন সূর্য কুমার যাদব ও ইশান কিষাণ।শূন্য রানে দুই উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে মুম্বাই।

বিধ্বস্ত মুম্বাইকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেয় অধিনায়ক রোহিত ও ইভান লুইস।শুরুতে একপ্রান্তে রোহিত কিছুটা রক্ষণাত্মক হলেও অন্যপ্রান্তে খুনে মেজাজে ছিলেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানব ইভান লুইস।আরসিবি বোলারদের বিরুদ্ধে তার ব্যাটিং তাণ্ডবে স্বস্তি ফিরে মুম্বাই শিবিরে। রোহিত-লুইসের জুটি থেকে আসে ১০৮ রান।কোরি এন্ডারসনের বলে আউট হওয়ার আগে ৪২ বলে বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৫ রানের দূর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন লুইস।

লুইস বিদায় নিলে দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নেয় অধিনায়ক রোহিত। ক্রনাল পান্ডিয়ার সাথে রোহিতের ৪০ রানের জুটি ভাঙে ১৫ রান করে ক্রানলের দূর্ভাগ্যজনক রান আউটের মাধ্যমে।

সময় গড়ানোর সাথে সাথে ব্যাটের তেজ বাড়তে থাকে ভারতের সবচেয়ে হার্ডহিটার ব্যাটসম্যানের। নিজের দিনে তিনি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন ওয়াংখেড় স্টেডিয়ামে কোহলিকে সেটাই জানান দিলেন রোহিত।

রিভিউ কল্যানে জীবন পেয়ে শেষ দিকে রোহিতের সাথে ছক্কা মিছিলে যোগ দেন মুম্বাইয়ের সেরা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া।ইংলিশ পেসার ক্রিস ওকসকে পরপর দুই বলে দুই ছক্কা হাকিয়ে ৪ বলে ১৩ রান করে পান্ডিয়া।

ম্যাচের এক বল বাকি থাকতে ৫২ বলে ১০ চার ও ৫ ছক্কায় ৯৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে এন্ডারসনের বলে সাজঘরে ফিরেন রোহিত।রোহিতের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে আসরের সর্বোচ্চ ২১৩ রান করে মুম্বাই। বেঙ্গালুরুর হয়ে এন্ডারসন ও যাদব ২টি করে উইকেট নেয়।