মুরালিধরণের দুটি রেকর্ড টিকে থাকবে আজীবন;

ক্রিকেট খেলাধুলা

রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙ্গার জন্য, এই কথাটা খেলাধূলাতে চিরন্তন সত্য হলেও, একটি ম্যাচে যতধরণের রেকর্ড গড়া যায়, তার বেলাতেই বেশি প্রযোজ্য। কিন্তু একজন ক্রীড়াবিদ যখন তার সারা ক্যারিয়ারে সাফল্য অর্জন করে, বিদায় বেলায় রেকর্ড গড়ে যায়, তা ভাঙ্গতে অনেক সময়ই লাগে এবং এখনো বহু বছরের পূর্বেকার অনেক রেকর্ড টিকে আছে স্বগৌরবে।

আজ যে দুটি রেকর্ড নিয়ে আলোচনা করছি, তা লংকান স্পিন লিজেন্ড মুত্তিয়া মুরালিধরণের। টেস্টে সর্বোচ্চ ৮০০ উইকেট শিকার করেছেন মুরালিধরণ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বোলার ওয়ার্নের সাথেও তার ব্যবধান ৯২ উইকেট। বর্তমানে ক্রিকেট খেলছেন এমন কেউ এর আশেপাশেও নেই।

টেস্টে সর্বোচ্চ ৬৭ বার পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকার করেছেন, দ্বিতীয় স্থানে আছেন শেন ওয়ার্ন, তিনি মাত্র ৩৭ বার ৫ উইকেট শিকার করেই দ্বিতীয় স্থানে আছেন। এক ও দুইয়ের ব্যবধান ৩০।

বর্তমানে টি২০ ক্রিকেটের আগ্রাসনে পড়ে টেস্ট ক্রিকেটে বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয় না সব ক্রিকেটারের। আবার যারা এখন ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার, তারা টি২০ ম্যাচেও সমান তালে খেলছেন। কাজেই বিগত ৫/৭ বছরে যাদের অভিষেক হয়েছে, তারা তিনফরম্যাটেই মগ্ন হচ্ছেন।

মুরালিধরণের সময়ে কিংবা তারপরেও সেরা বোলিং করেছেন এমন বোলাদের মধ্যে অন্যতম হরভজন সিংহ, ইতিমধ্যেই ক্যারিয়ারের শেষে চলে এসেছেন, হেরাথও শেষ সময়ে এসেছেন। এছাড়াও পাকিস্তানের সাঈদ আজমল দলে নেই দীর্ঘদিন যাবতব, ইয়াসির শাহও বেশি দিনের ক্রিকেটার নয়, ইংল্যান্ডের গ্রায়েম সোয়ান ক্যারিয়ার শেষ করেছেন, এন্ডারসন ও ব্রডই ইংল্যান্ডের সেরা বোলার এখন, তাদের ক্যারিয়ারও শেষের দিকে। অজি দলে নেই কোন সিনিয়র বোলার। আফ্রিকাতে মরকেল ও স্টেইন থাকলেও দুজনে মুরালিধরণের দুটি রেকর্ড থেকে যোজন যোজন দূরে, অন্যরাও তাই। বাংলাদেশে সাকিব থাকলেও পর্যাপ্ত টেস্ট খেলার সুযোগ না থাকায় মুরালির রেকর্ড ভাঙ্গার রেসে সাকিব থাকছেন না নিশ্চিত। ক্যারিবিয়ান দলের নারিন কিংবা বিশু ভালো বোলার হলেও দলটির টেস্ট খেলাই এখন হুমকির মুখে। নিউজিল্যান্ডেও নেই কোন সিনিয়র বোলার।

তিনশত কিংবা তারও বেশি উইকেট নিয়ে এখনো টেস্ট খেলছেন তাদের মধ্যে রঙ্গনা হেরাথ, এন্ডারসন, ব্রড ও মরনে মরকেল আছেন দুইশত বা ততোধিক উইকেট নিয়ে। এছাড়া আর একজনও বোলার নেই বর্তমানে যিনি ২০০ বা ততোধিক উইকেট শিকার করেছেন। হেরাথ, এন্ডারসন, ব্রড মরকেল, চারজনেই ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে ও শেষপথে চলে এসেছেন, তাদের মধ্যে এন্ডারসন ৪৭৭ উইকেট পেলেও ৫ উইকেটের সংখ্যা মাত্র ২২টি। হেরাথের ৩০টি। এই অবস্থাদের তাদের কারো দ্বারাও মুরালিধরণের রেকর্ড স্পর্শ করা সম্ভবপর নয়।

২০১০ সালের পর অভিষেক হয়েছে এমন সব ভালো বোলাররা টি২০ ক্রিকেটের স্রোতে গা ভাসানোয় বেশি বেশি টেস্ট খেলতে পারছেন না, আর খেললেও ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করা অসম্ভব। তাই মুরালিধরণের ৮০০ উইকেট কিংবা ৬৭টি বার ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড ভাঙ্গাতো দূরের কথা ভাঙ্গবে এমন কল্পনা করাও দুঃসাধ্য ব্যাপার।