মুস্তাফিজ ম্যাজিকেও শেষ রক্ষা হল না মুম্বাইয়ের!

ক্রিকেট খেলাধুলা

খেলায় হার জিত থাকবে। ক্রিকেটীয় কায়দায় দু’পক্ষের মারা-মারি কাটা-কাটি যাই হোক না কেন দিন শেষে একদল হাসবে অন্যদল কাঁদবে। এটাই নিয়তি, এটাই খেলার নিয়ম। আর এ নিয়ম মেনেই  আইপিএল সিজন ইলেভেনের ৭ম ম্যাচে মাঠে নামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও বর্তমান চ্যম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

ম্যাচটিতে অন্য ম্যাচের মতো সাদা-মাটা হলেও বাংলাদেশি তথা টাইগার ভক্তদের জন্য ছিল অন্যন্য অসাধারণ। কারণ ম্যাচটিতে খেলেছেন দুই টাইগার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। তবে দু’জন একে অপরের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। ওই যে প্রথম প্যারায় বলেছিলাম, দিন শেষে একদল পরাজিত হয়ে কাদবে এবং অন্যদল জয়ী হবে হাসবে। ম্যাচটিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। পরতে পরতে নাটকে ভরা রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে হেরেছে মোস্তাফিজরা আর জিতেছেন সাকিবরা।

বৃহস্পতিবারের ম্যাচটিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৭ রান সংগ্রহ করে মুম্বাই। জবাবে খেলতে নেমে ১ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হায়দরাবাদ।

এর মুম্বাইয়ের ১৪৭ রানের জবাবে হায়দরাবাদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন রোহিত শর্মা ও ঋদ্ধিমান শাহা। দুজন বেশ দেখে-শুনে এগোতে চাইলেও ৬১ রানের মাথায় ঋদ্ধিমানের বিদায়ে প্রথম জুটির পতন অরেঞ্জ আর্মিদের। এরপর ৭১ রানে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও ৭৭ রানে বাউন্ডারিতে তালুবন্দি হয়ে অর্ধশতক মিস করেন ওপেনার শিখর ধাওয়ান। মাঠ ছাড়ার পূর্বে তার নামের পাশে যোগ হয় ৪৫ রান।

তবে মাঝপথে দীপক হুদা ও উইসুফ পাঠান চেষ্টা করেন দলের হাল ধরতে। কিন্তু পারেননি। ম্যাচের ১৯ তম ওভারে টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমান পর পর দুই উইকেট তুলে স্তব্ধ করে দেন গোটা স্টেডিয়াম। হায়দরাবাদকে জেতার বন্দরে পৌঁছানোর ঠিক আগ মুর্হুতে কলিজা শুকিয়ে দেন তিনি। কিন্তু শেষ ওভারে নিজেদের পক্ষে থাকা ম্যাচটিতে হারিয়ে দিলেন বেন কাটিং। ৬ বলে হায়দরাবাদের ১১ রানের বিপরীতে প্রথম বলে ছয় এবং শেষ বলে চার খেয়ে বসেন বেন কাটিং। আর তাতে দ্বিতীয়বারের মতো স্বপ্নের অপমৃত্যু হয় মুম্বাইয়ের।

এদিন শুরুতেই টস হেরে হায়দরাবাদের অধিনায়কের ডাকে সাড়া দিয়ে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপদে পড়ে মোস্তাফিজের মুম্বাই। এভিন লুইসকে সঙ্গে নিয়ে অদিনায়ক রোহিত শর্মা ইনিংসের গোড়াপত্তন শুরু করেন। অধিনায়ক রোহিত শর্মা ব্যক্তিগত ১১ রানের মাথায় দ্বিতীয় ওভারে বিলি স্ট্যানলকের বলে সাকিবের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন। তবে মাঝপথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা কাইরন পোলার্ড-ক্রুনাল পাণ্ডের ব্যাটে ১৪৭ রান করতে সক্ষময় হয় মুম্বাই।

এদিকে মুম্বাইয়ের হয়ে মায়াঙ্ক ৪টি এবং মোস্তাফিজ তিনটি উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে হায়দরাবাদের পক্ষে সনদীপ-বিলি ও কাউল দুটি করে উইকেট অর্জন করেন।

হায়দরাবাদের একাদশ: শিখর ধাওয়ান, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), মানিষ পাণ্ডে, সাকিব আল হাসান, দীপক হোদা, সনদীপ শর্মা, বিলি স্ট্যানলকে, ইউসুফ পাঠান, ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটকিপার), রশিদ খান, সিদ্ধার্থ কাউল।

মুম্বাইয়ের একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), ইভিন লুইস, ইশান কিশান (উইকেট কিপার), সূর্যকুমার যাদব, কাটিং,  কাইরন পোলার্ড, ক্রুনাল পাণ্ডিয়া, মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান, মায়াঙ্ক মার্কণ্ডে, মোস্তাফিজুর রহমান, জাসপ্রিত বুমরাহ।