যে কারণে সুপার ফোর নিশ্চিত করেও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ

এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বের সূচিতে দুই দিনে টানা দুই ম্যাচ রাখা হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। মঙ্গলবার হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পরদিনই হাইভোল্টেজ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের এই সূচিকে ঘিরে হয়েছে তুমুল সমালোচনা।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রবল আপত্তির মুখেও সূচিতে কোনরকম পরিবর্তন আনেনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। যার ফলে বাধ্য হয়েই দুই দিনে দুই ম্যাচ খেলতে হবে রোহিত শর্মার দলকে।

ভারতের এ সূচির ঝামেলা নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনা হলেও সকলের নজর এড়িয়ে গেছে একইরূপ আরেকটি সমস্যা। যা কিনা ভারতের চেয়েও গুরুতর। এশিয়া কাপের সূচি অনুযায়ী ২০ তারিখ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ‘বি’ গ্রুপের দুই দল বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান।

‘বি’ গ্রুপের তৃতীয় দল শ্রীলঙ্কা নিজেদের দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ায় এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সুপার ফোর। কিন্তু সুপার ফোর নিশ্চিত হলেও স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই বাংলাদেশ কিংবা আফগানিস্তানের।

কেননা সূচি মোতাবেক ২০ তারিখ গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচ খেলার পরদিনই মাঠে নেমে যেতে হবে সুপার ফোর রাউন্ডের প্রথম ম্যাচ খেলতে। শুধু তাই নয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে আবুধাবি থেকে উড়াল দিতে হবে দুবাইতে।

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলবে আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। পরের দিন মাঠে গড়াবে সুপার ফোরের দু’টি ম্যাচ। আবুধাবিতে খেলবে গ্রুপ ‘এ’ রানারআপ ও গ্রুপ ‘বি’ চ্যাম্পিয়ন এবং দুবাইতে খেলবে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন ও গ্রুপ ‘বি’ রানার আপ।

অর্থ্যাৎ ২০ তারিখ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে যেই হারবে গ্রুপ রানারআপ হয়ে তাদের পাড়ি দিতে হবে ১৪০ কিলোমিটার। আগেরদিন রাতে ম্যাচ শেষ করে এই ১৪০ কিমি ভ্রমণ করে পরদিন দুপুরে আবার নেমে পড়তে হবে মাঠে। আরব আমিরাতের উত্তপ্ত গরমে যা কিনা খুবই কঠিন কাজ।

আর এই কঠিন কাজ থেকে রেহাই পেতে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই বাংলাদেশ দলের। তামিম ইকবালের দল থেকে ছিটকে পড়া, মুশফিকুর রহিমের পাজরের ইনজুরি কিংবা সাকিব আল হাসানের বাঁ হাতের কণিষ্ঠার ইনজুরির কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে তাদের বিশ্রাম দেয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু সুপার ফোরের কঠিন সূচির সামনে দাঁড়িয়ে ‘মাস্ট উইন’ পরিস্থিতিতে সাকিব-মুশফিকের মতো খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেয়ার ব্যাপারে চিন্তা বেশ কঠিনই হবে টিম ম্যানেজম্যান্টের জন্য।

Comments

comments

Leave A Reply

Your email address will not be published.