যে কারনে পারিশ্রমিকটা কম হয়ে গেল জামাল ভূঁইয়ার

খেলাধুলা ফুটবল বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের মধ্যেই গত মার্চের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন জামাল ভূঁইয়া। লা লিগায় নিয়মিত ম্যাচ বিশ্লেষণ করছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক। বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে অনুশীলন ম্যাচও খেলার সুযোগ হয়েছে তাঁর। এসবের মধ্যেই খোঁজ রাখছেন দেশের ফুটবলের। ডেনমার্ক থেকে মেসেঞ্জারে তিনি কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো দেখে মনে হচ্ছে, খেলা ছাড়াই খুব ব্যস্ত সময় কাটছে আপনার। কখনো ডেনমার্ক, কখনো স্পেন, আবার কখনো জার্মানিতে-এখন আছেন কোথায়?

জামাল ভূঁইয়া: এখন ডেনমার্কে বড় ভাইয়ের বাসায় আছি। ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে খুব ভালো সময় কাটছে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে খেলা শুরু করার পর সম্ভবত এই প্রথম ডেনমার্কে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এতটা সময় কাটাচ্ছেন…

জামাল: হ্যাঁ, বাংলাদেশে খেলা শুরু করার পরই এই প্রথম পরিবারের সঙ্গে এত সময় কাটানো হচ্ছে। মা-বাবা, ভাইয়েরা তো আছেনই। স্ত্রী এসেও অনেক দিন ছিল। তার পরীক্ষা থাকায় এক মাস আগে চলে গেছে।

১৯ ডিসেম্বর থেকে নতুন মৌসুম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটি। এ ছাড়া নেপালের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে বাংলাদেশ। আপনি ঢাকায় আসছেন কবে?

জামাল: ঢাকায় ফেরার ব্যাপারে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

ক্লাব ফুটবলে পারিশ্রমিক নিয়ে একটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের গত বছরের চুক্তির ৩৫ শতাংশ পারিশ্রমিক দেওয়া হবে নতুন মৌসুমে। জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে আপনি এতে সন্তুষ্ট?

জামাল: আপনাকে যদি জিজ্ঞাসা করি, কেমন পারিশ্রমিক আশা করেন? আপনি কিন্তু ১০০ ভাগের কথাই বলবেন। চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে যেকোনো পেশার মানুষই হোন না কেন, সবাই ১০০ ভাগই আশা করেন। আমাদের পারিশ্রমিকটা কম হয়ে গেল। পরিস্থিতির বিচারে ৪০ ভাগ হলেও ঠিক ছিল। সভাপতি তো ৪০ ভাগের কথাই বলেছিলেন।

লা লিগা শুরুর পর থেকেই নিয়মিত ম্যাচ বিশ্লেষণ করছেন। সেখানে অভিজ্ঞতাটা কেমন?

জামাল: এবার ২৩-২৪ দিন ছিলাম স্পেনের বার্সেলোনায়। সাত-আটটি ম্যাচে বিশ্লেষণ করেছি। সেখানে উন্নত মানের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে যাতায়াত, খাওয়াদাওয়া-সব ব্যবস্থাই আয়োজকেরা করে থাকেন। ম্যাচপ্রতি ২ হাজার ডলার সম্মানীও পাই। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা ভালো। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবেই আমি লা লিগায় ম্যাচ বিশ্লেষণ করছি।

সেখানকার ক্লাবগুলোর অনুশীলন দেখার সুযোগ হয়েছে কি? স্পেনে নাকি আপনি নিজেও অনুশীলন করেছেন…

জামাল: ঠিক অনুশীলন নয়। স্পেনে একটা অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাচ খেলা যায়। ফুটবলের একটি অ্যাপে কাউকে খেলার আমন্ত্রণ জানানো বা আমন্ত্রণ গ্রহণের সুযোগ আছে। আমি সেই অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাচ খেলতাম। ৩৫ মিনিট করে দুই অর্ধে ৭০ মিনিটের খেলা। কখনো ৮ জনের দল বা কখনো ১১ জনের দল হয়। ধরুন, চারটার সময় খেলা হলে আধঘণ্টা আগে সেখানে উপস্থিত থাকতে হয়। নিজে এভাবে ম্যাচ খেললেও করোনার কারণে কোনো দলের অনুশীলন দেখার সুযোগ হয়নি।

এসব ম্যাচ কারা খেলেন? তাঁদের কখনো বলেছেন যে আপনি বাংলাদেশের অধিনায়ক?

জামাল: তাঁরা অনেক ভালো ফুটবলার। শুনেছি, তাঁরা স্পেনের দ্বিতীয়-তৃতীয় বিভাগে খেলেন। তবে আমি কখনো নিজের পরিচয় দিইনি। স্পেনে কেন এসেছি, সেটাও বলিনি। তবে তাঁরা আমার খেলা দেখে বুঝেছেন আমি পেশাদার ফুটবলার। আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন আমি কোথায় খেলি, আমি কিছু বলিনি।