যে ৫টি রেকর্ড এখনো ছুঁতে পারেননি মেসি–রোনালদো

খেলাধুলা ফুটবল

টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার জিতেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবারের ট্রফিটা জিতে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন লিওনেল মেসির পাঁচবারের বর্ষসেরা হওয়ার রেকর্ডকে। বিশ্বের সেরা এ দুই খেলোয়াড়ের দ্বৈরথ বেশ আগেই ঠাঁই পেয়েছে ফুটবলের চিরায়ত গল্প-গাথায়। কিন্তু কোথায় থামবেন তাঁরা?
রোনালদো বলেছেন, ‘দুজনের দ্বৈরথ তো কেবল শুরু!’ এদিকে দিনে দিনে দুজনের বয়সের বেলা কিন্তু বেড়েই চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোনালদো পা রাখবেন তেত্রিশে। মেসি একত্রিশে পা রাখবেন আগামী জুনে। হয়তো আরও চার-পাঁচ মৌসুম খেলতে পারেন তাঁরা। নিজেদের মধ্যকার দ্বৈরথকে পরিপূর্ণতা দিতে ইউরোপিয়ান ফুটবলের আরও বেশ কিছু রেকর্ড ভাঙতে হবে দুই তারকাকে। আসুন জেনে নিই যে রেকর্ডগুলো এখনো ভাঙা হয়নি মেসি-রোনালদোর:

ইউরোপিয়ান কাপ/ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে সর্বোচ্চ গোল:
১৯৯২-৯৩ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ সংস্করণ চালুর আগে আসরটির নাম ছিল ইউরোপিয়ান কাপ। তখন ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ ৭ গোলের রেকর্ড গড়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের দুই কিংবদন্তি আলফ্রেড ডি স্টেফানো ও ফেরেঙ্ক পুসকাস। মেসি এ পর্যন্ত তিন ফাইনালের দুটিতে (২০০৯ ও ২০১১) গোল করেছেন। রোনালদো চার ফাইনালে করেছেন ৪ গোল।

ডি স্টেফানোর আরও একটি রেকর্ড এখনো কেউ ছুঁতে পারেনি। সবচেয়ে বেশি ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালে গোলের রেকর্ড গড়েছেন এ আর্জেন্টাইন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০—টানা পাঁচটি আসরের ফাইনালেই গোল করেছেন রিয়াল কিংবদন্তি। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ আসরটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যকবার ফাইনাল খেলার রেকর্ড থেকেও বেশ পিছিয়ে মেসি কিংবা রোনালদো। রিয়াল ফরোয়ার্ড এ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগে পাঁচবার ফাইনালে খেলেছেন। আটবার ফাইনাল খেলে যুগ্মভাবে রেকর্ডটির মালিক রিয়াল কিংবদন্তি পাকো গেন্তো এবং এসি মিলান কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি।

ভিন্ন ভিন্ন দলের হয়ে সফল:
চ্যাম্পিয়নস লিগে এই রেকর্ড গড়তে হলে ক্লাব পাল্টাতে হবে মেসি-রোনালদোকে। ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি দলের হয়ে শিরোপা জিতেছেন সাবেক ডাচ্‌ মিডফিল্ডার ক্ল্যারেন্স সিডর্ফ (আয়াক্স ১৯৯৫, রিয়াল মাদ্রিদ ১৯৯৮, মিলান ২০০৩, ২০০৭)। মেসি যেসব কীর্তি গড়েছেন, সবই বার্সেলোনার হয়ে। রোনালদোর তেমনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ। তবে যদি বলা হয়, চ্যাম্পিয়নস লিগে ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন কে—তাহলে সবার আগে আসবেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ (আয়াক্স, জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান, বার্সেলোনা, এসি মিলান ও পিএসজি)।

সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা:
চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ৩৬ বছর ৩৩৩ দিন বয়সে গোলের রেকর্ড পাওলো মালদিনির। মিলান কিংবদন্তির এ রেকর্ড টপকাতে হলে ২০২১-২২ মৌসুমের ফাইনালে গোল করতে হবে রোনালদোকে। একই কীর্তি গড়তে মেসিকে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৩-২৪ মৌসুমের ফাইনাল পর্যন্ত।
চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ড ফ্রান্সেসকো টট্টির (৩৮ বছর ৫৯ দিন)। ‘রোমা সম্রাট’-এর গড়া রেকর্ডটি ভাঙতে রোনালদো সুযোগ পাবেন ১ এপ্রিল ২০২৩ সালের পর এবং মেসি সুযোগ পাবেন ২২ আগস্ট ২০২৫ সালের পর! চ্যাম্পিয়নস লিগের আগে ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা ম্যানফ্রেড বার্গসমুলার (৩৮ বছর ২৯৩ দিন)। জার্মানির সাবেক এই স্ট্রাইকারের রেকর্ডটি ভাঙতে রোনালদোকে ২২ নভেম্বর ২০২৩ এবং মেসিকে ১৩ এপ্রিল ২০২৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

দ্রুততম গোল:
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম গোলদাতা সাবেক ডাচ্‌ স্ট্রাইকার রয় ম্যাকে। ২০০৭ সালে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মাত্র ১০.১২ সেকেন্ডে রিয়ালের জালে গোল করেছিলেন তিনি। আসরটিতে রোনালদো ও মেসির দ্রুততম গোলের কীর্তি ম্যাচের চার মিনিট সময়ে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে দ্রুততম গোলের রেকর্ড পাওলো মালদিনির। ২০০৫ সালে ‘মিরাকল অব ইস্তাম্বুল’-খ্যাত সেই ধ্রুপদি ফাইনালে মালদিনি গোল করেছিলেন মাত্র ৫৩ সেকেন্ডে! মেসি-রোনালদো কিন্তু এখানে মালদিনির ধারেকাছেও নেই। দুটি ফাইনালে মেসি গোল করেছেন ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। ফাইনালে রোনালদোর দ্রুততম গোল ২৬ মিনিটে।

হ্যাটট্রিক:
চ্যাম্পিয়নস লিগে সমান সাতটি করে হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি-রোনালদো। কিন্তু দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড সাবেক ফরাসি স্ট্রাইকার বাফেতিম্বি গোমিসের দখলে। ২০১১ সালে অলিম্পিক লিঁওর হয়ে ডায়নামো জাগরেবের বিপক্ষে তিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন মাত্র ৮ মিনিটের ব্যবধানে! আসরটিতে মেসির দ্রুততম হ্যাটট্রিকের কীর্তি ২২ মিনিটের ব্যবধানে। ২০১০ কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে আর্সেনালের বিপক্ষে একাই চার গোল করেছিলেন বার্সেলোনার এ ফরোয়ার্ড। এর মধ্যে ২১ মিনিটে প্রথম গোলটি করার পর তৃতীয় গোল তুলে নিয়েছেন ৪২ মিনিটে। রোনালদো দ্রুততম হ্যাটট্রিক তুলে নিয়েছেন মালমো সিটির বিপক্ষে মাত্র ১২ মিনিটের ব্যবধানে।