রিয়ালের ৫ ফরোয়ার্ড মিলে করেছেন মেসির অর্ধেক গোল!

খেলাধুলা ফুটবল

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ কি লিগ শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকেই পড়ল? রোববার রাজে পুঁচকে গিরোনার কাছে হারের পর এই প্রশ্নই উঠে গেছে। লিগে মাত্রই ১০টি ম্যাচ খেলা হয়েছে। এরই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে ৮ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছে রিয়াল! রোববার গিরোনার কাছে হারের পর বেজায় চটেছেন সাফল্য পিপাসু সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়-কোচ কারো সঙ্গেই কথা না বলে পেরেজ নিরবে চলে গেছেন বলেই জানিয়েছে রিয়ালের মুখপাত্র হিসেবে বিবেচিত স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা।

রিয়াল সভাপতির চটে যাওয়ার কারণটাও স্পষ্টই। রিয়ালে সবচেয়ে কম দামী খেলোয়াড় যিনি, তারও অর্ধেক টাকা খরচ করে পুরো দল গড়েছে গিরোনা! সেই পুঁচকে গিরোনার কাছেই কিনা হেরে বসেছে দৈত্য রিয়াল। স্বাভাবিকভাবেই পেরেজ ক্ষিপ্ত। কোচ জিনেদিন জিদানও অসন্তুষ্ট। গত কয়েক মৌসুম ধরে উড়তে থাকা রিয়ালের হঠাৎ এমন ছন্নছাড়া চেহারায় আবির্ভূত হওয়ার কারণ কি?

রিয়ালের পারফরম্যান্স বিশ্লেষকরা এখন সেই গবেষণাতেই ব্যস্ত। এই ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় কারণটা খুঁজেও বের করেছেন তারা। রিয়ালের ‍আক্রমণভাগের সব খেলোয়াড়েরাই এক সঙ্গে পড়েছেন ফর্মহীনতায়! পরিসংখ্যানও সেটাই বলছে।

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমা, গ্যারেথ মিলে রিয়ালে গড়ে তুলেছেন অসাধারণ আক্রমণ ত্রয়ী। কিন্তু নতুন মৌসুমে রিয়ালের আক্রমণত্রয়ী বিবিসি পুরো ব্যর্থ। তিনজনে মিলে করেছেন মাত্র ৪ গোল! শুধু এই ত্রয়ীই নয়। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রিয়ালের ব্যাকআপ ফরোয়ার্ডরাও ভুগছেন ফর্মহীনতায়। রিয়ালের ফরোয়ার্ডরা যেন গোল করাটাই ভুলে গেছে!

১০ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে রিয়ালের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার কারণটা একটা তথ্যেই স্পষ্ট। বার্সেলোনাকে টেনে নিয়ে যাওয়া লিওনেল মেসি ১০ ম্যাচে করেছেন ১২ গোল। সেখানে রিয়ালের ৫ ফরোয়ার্ড মিলে করেছেন ঠিক তার অর্ধেক, মানে ৬ গোল!

নিষেধাজ্ঞার কারণে গোল-মেশিন রোনালদো প্রথম ৪ ম্যাচ খেলতে পারেননি। করিম বেনজেমা, গ্যারেথ বেলও ভুগছেন চোটে। রিয়ালের শুরুটা ভালো না হওয়ার এটাও একটা কারণ বটে। কিন্তু সেই যুক্তিও এখন না সেভাবে পাত্তা পাচ্ছে না। কারণ নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে রোনালদো এরই মধ্যে লিগে খেলে ফেলেছেন ৬টি ম্যাচ।

বিস্ময়করই বটে; সেই ৬ ম্যাচে রোনালদো করেছেন মাত্র ১টি গোল! তার অন্যতম আক্রমণ জুটি বেনজেমাও করেছেন ৬ ম্যাচে ১ গোল। তুলনায় বেল একটু এগিয়ে। তিনি ৫ ম্যাচে করেছেন ২ গোল। আক্রমণ ত্রয়ী বিবিসির চোট, নিষেধাজ্ঞা আর ফর্মহীনতার কারণে কোচ জিদান নতুন মৌসুমে বড় আস্থা রেখেছেন স্প্যানিশ উইঙ্গার লুকাস ভাজকুয়েজের উপর। কিন্তু ২৬ বছর বয়সী লুকাস কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে পুরো ব্যর্থ। লিগের পু্রো ১০ ম্যাচই খেলে তিনি করেছেন মাত্র ১ গোল।

জিদানের আরেক আস্থা, বোজিয়া মেয়োরালও ব্যর্থতারই আরেক পিঠ। তিনি ৬ ম্যাচ করেছেন ১ গোল! এই বাঘা বাঘা ফরোয়ার্ডদের তুলনায় কোচ জিদানের মান কিছু রক্ষা করেছেন তরুণ মার্কো এসেনসিও ও মিডফিল্ডার ইসকো। দুজনেই করেছেন সমান ৩টি করে গোল।

রিয়ালের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবের সব ফরোয়ার্ডের এক সঙ্গে ফর্ম খরায় পড়ার বিষয়টি ভাবাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদেরও! সবার মনেই খেলা করছে বিস্ময়মিশ্রিত প্রশ্ন, এটা কিভাবে সম্ভব? এই ফরোয়ার্ড অফফর্মকে যত দ্রুত ছুটি দিতে পারবে, কোচ জিদানের জন্য ততই ভালো। নয়তো দুশ্চিন্তার ভাজটা কেবল চওড়াই হতে থাকবে।