রোনালদো দলেই নেই, নেইমার বদলি তালিকায়!

খেলাধুলা ফুটবল

সিরো ইমোবাইলের প্রতিভা-দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নেই কারো। তাই বলে লাৎসিও’র এই ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, নেইমারদের মতো সুপারস্টারদের পেছনে ফেলে কোনো একাদশে জায়গা করে নেবেন, এমনটা কল্পনা করাও কঠিন! কিন্তু সেটাই এখন চরম সত্য। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, নেইমারদের পেছনে ২৭ বছর বয়সী ইমোবাইল জায়গা করে নিয়েছেন ইউরোপিয়ান একাদশে!

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে আপাতত ছুটি! চলছে আন্তর্জাতিক বিরতি। ক্লাব ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ছুটি দিয়ে খেলোয়াড়দের কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্বকাপ টিকিট পাওয়ার আশায় প্লে-অফ যুদ্ধে নামার। কেউ বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় দলের হয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলার। আন্তর্জাতিক এই বিরতির মধ্যেই ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে একটা ইউরোপিয়ান একাদশ গঠন করেছে ফুটবলের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গোল ডট কম।

আন্তর্জাতিক এই বিরতির আগে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবল নতুন মৌসুমের ১১টি সপ্তাহ পার করে দিয়েছে। সেই ১১ সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে সেরা পারফরম্যান্সদের নিয়েই ইউরোপিয়ান একাদশটি গঠন করেছে গোল। অনেক গবেষণা করে গড়া গোলের সেই একাদশে জায়গাই হয়নি কদিন আগে পঞ্চম বারের মতো বিশ্বসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর।

শুধু রোনালদো একাই নন, বিশ্বসেরা রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়েরই জায়গা হয়নি দলে! নেইমার রোনালদোর মতো একেবারেই বাদ পড়েনি। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে দামী ফুটবলার নেইমারের জায়গা হয়েছে বদলি তালিকায়!

জুভেন্টাসের আর্জেন্টাইন তরুণ পাওলো দিবালা, বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ ফরোয়ার্ড রবার্ট লেভান্ডভস্কি, মোনাকোর কলম্বিয়ান তারকা রাদামেল ফ্যালকাও, নতুন মৌসুমে অনেকেই আলো ছড়াচ্ছেন। মাঠে নামলেই পাচ্ছেন গোল। কিন্তু এদেরও কেউ গোল গঠিন একাদশের আক্রমণভাগে।

বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসি অবধারিতভাবেই আক্রমণভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন। আক্রমণভাগে তার সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছেন লাৎসিও’র সিরো ইমোবাইল এবং পিএসজিতে নেইমারের সতীর্থ এডিনসন কাভানি। যার সঙ্গে নেইমারের অহংবোধের লড়াইটা চরমে।

বার্সেলোনার হয়ে লিগে ১১ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন মেসি। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫ ম্যাচে করেছেন ১৫ গোল। তার থাকাটা অবধারিতই। তবে আক্রমণভাগে তার দুই সঙ্গী ইমোবাইল ও কাভানি যেন মেসির চেয়েও এগিয়ে। গোলের হিসেব অন্তত বলছে সেটাই।

লাৎসিওর হয়ে ইমোবাইল এরই মধ্যে লিগে ১১ ম্যাচে করেছেন ১৪ গোল। যা ইউরোপিয়ান শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যেই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোল। পাশাপাশি ইউরোপা লিগেও করেছেন ২টি গোল। সঙ্গে সতীর্থদের দিয়েও করিয়েছেন ৬টি গোল। সব মিলে ইমোবাইল নিজের দক্ষতা-পারফরম্যান্স দিয়েই রোনালদো-নেইমার-দিবালা-লেভান্ডভস্কি-ফ্যালকাওদের পেছনে ফেলে জায়গা করে নিয়েছেন একাদশে।

পিএসজির হয়ে কাভানি ফরাসি লিগ ওয়ানে ১১ ম্যাচে করেছেন ১৩ গোল। সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৪ ম্যাচে ৪টি। সব মিলে ১৫ ম্যাচে ১৭ গোল। গোলের ইউরোপিয়ান একাদশে পিএসজির উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ডের থাকাটা তাই অবধারিতই ছিল।

আক্রমণভাগের মতো চমক থাকছে মাঝমাঠ, রক্ষণ এবং গোলপোস্টেও। মাঝমাঠে ম্যানচেস্টার সিটির বেলজিয়াম মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনের থাকাটা অপরিহার্যই। তার সঙ্গে বাকি দুজন হলেন ম্যান সিটিরই জার্মান তরুণ লেরয় শেন এবং নাপোলির ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জর্জিনহো!

রক্ষণে পিএসজির ব্রাজিলিয়ান তারকা দানি আলভেস। যিনি রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি গোল করাতেই ভূমিকা রাখছেন। পিএসজির ৩টি গোলে প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছেন।

রক্ষণে তার সঙ্গে আছেন বার্সেলোনার ক্যামেরুনিয়ান বংশোদ্ভুত ফরাসি ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি, ইন্টারমিলানের স্লোভাকিয়ান ডিফেন্ডার মিলান স্ক্রিনিয়ার এবং চেলসির স্প্যানিশ ডিফেন্ডার কেসার আজপিলিকুয়েটা।

গোলপোস্টে নতুন মৌসুমটা অবিশ্বাস্য কাটাচ্ছেন বার্সেলোনার জার্মান গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে তের স্টেগান। অবিশ্বাস্য সব সেভ করে নজর কেড়েছেন সবার। ১১ ম্যাচে হজম করেছেন মোটে ৪টি গোল। তবু বার্সার এই ২৫ বছর বয়সী গোলরক্ষককে হার মানতে হয়েছে।

তাকে পেছনে ফেলে একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের স্লোভেনিয়ান গোলরক্ষক ইয়ান অবল্যাক। গোলপোস্টের নিচে সত্যিই স্বপ্নের মতো সময় কাটাচ্ছেন ২৪ বছর বয়সী অবল্যাক।

লিগে ১১ ম্যাচের ৬টিতেই কোনো গোল খাননি। প্রতি ২৬ মিনিটে একটি করে দুর্দান্ত সেভ করেছেন।