রোমাঞ্চকর সেই মহারণের শুরু আজ

ক্রিকেট খেলাধুলা
যাক, অবশেষে কথার লড়াইটা শেষ হতে চলেছে। আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে অ্যাশেজ। শুরু হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী, সবচেয়ে শ্বাসরুদ্ধকর ও সবচেয়ে মর্যাদার লড়াই। ব্রিসবেনে আজ ভোরে অ্যাশেজ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেবার ৩-২ ব্যবধানে জিতে গিয়ে ইতিহাস গড়েছিল অ্যালিস্টার কুকের অস্ট্রেলিয়া। যদিও, ইতিহাস অস্ট্রেলিয়ারই পক্ষে। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে ৯৮টি টেস্টে এই দু’দল মুখোমুখি হয়েছে তার মধ্যে মাত্র ২৩ টিতে জিতেছে ইংল্যান্ড।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পরিমাণ এর দ্বিগুণেরও বেশি। তারা জিতেছে ৫০টি ম্যাচ। এমনকি অ্যাশেজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও অস্ট্রেলিয়ান – স্যার ডন ব্র্যাডম্যান ও শেন ওয়ার্ন। যদিও মাঠের লড়াই একবার শুরু হয়ে গেলে এসব পরিসংখ্যান আর ইতিহাস খুব একটা কাজে আসে না।
যদিও আজ যখন গ্যাবায় মাঠে নামবে সফরকারীরা তখন একটা বিষয়ে তারা পিছিয়েই থাকবে। কারণ, এই মাঠে সর্বশেষ তারা জিতেছিল সেই ১৯৮৬ সালে। আর অস্ট্রেলিয়ানরা এই মাঠে গত ২৮ টেস্ট হলো অপরাজিত আছে। ফলে, স্টিভেন স্মিথের দলই ফেভারিট।
তবে, অস্ট্রেলিয়ান সাম্প্রতিক ফর্ম ভালো না। সর্বশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ড্র করেছে ১-১ ব্যবধানে। শুধু তাই নয়, ব্যাটিং অর্ডারটাও এখন অবধি গোছাতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ টেস্টে খেলা ম্যাট র‌্যানশো, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাথু ওয়েড বাদ পড়েছেন। জায়গা পেয়েছেন ক্যামেরন ব্যাংক্রফট, শন মার্শ ও উইকেটরক্ষক টিম পেইন। তার ওপর সহ-অধিনায়ক ও ওপেনিং ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নারের ইনজুরির শঙ্কা তো আছেই।
সবকিছু ঠিক থাকলে তার অবশ্য বাদ পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে শতভাগ ফিট না হয়ে কতটা নিজেকে উজাড় করে দিতে পারবেন সেটা যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। তার জন্যই প্রস্তুত রাখা হয়েছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে। শেষ মুহূর্ত অবধি ওয়ার্নারকে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে অস্ট্রেলিয়া। তবে স্মিথ আশার বাণী শোনালেন। তিনি বলেন, ‘ডেভিড ঠিক হয়ে যাবে। ও খুবই আত্মবিশ্বাসী। আশাকরি সব ঠিক হয়ে যাবে।’
একই সাথে এটাও ঠিক যে, সর্বশেষ পাঁচটা অ্যাশেজের মধ্যে চারটিই জিতেছে ইংল্যান্ড। সেটাই মনে করিয়ে দিলেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট। তিনি বলেন, ‘শেষ পাঁচটা অ্যাশেজের মধ্যে চারটিতেই আমরা জিতেছি। শেষ সিরিজে যারা ছিলেন, তাদের অনেকেই এবারো দলে আছে। ফলে আমরা অনেক সুখস্মৃতি নিয়েই মাঠে নামতে যাচ্ছি।’
চার বছর আগে মিশেল জনসনের ৯ উইকেট শিকারের সুবাদে এই ব্রিসবেনেই  ৩৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল অজিরা। শেষ পর্যন্ত ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছিল  ইংলিশদের। যদিও সেসব ভাবাচ্ছে না ইংলিশদের। জো রুট বলেন, ‘চার বছর আগে কি হয়েছিল, সেসব ভেবে এখন লাভ নেই। এরপর আমাদের দলে অনেক পরিবর্তন এসেছে।’
ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়ান কোচ ট্রেভর বেইলিসও জানালেন, স্বাগতিকদের একবিন্দুও ছাড় দেবে না তার দল। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ানরা শুরুতেই প্রতিপক্ষকে আঘাত হানতে পছন্দ করে। আমরা ওদের ব্যাপারে কম-বেশি সবই জানি। আমরাও শক্তভাবেই মাঠে নামার বিষয়ে নিজেরা আলোচনা করেছি। একটা অ্যাশেজ টেস্টে নিজেদের পক্ষে যতটা সম্ভব, ততটা আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখাতে হয়। আমরা এখানে স্রেফ অংশ নিতে আসিনি। আমরা এখানে জিততে এসেছি। আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী।’
বলাই বাহুল্য, সিরিজে ইংলিশদের তুরুপের তাস হতে যাচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা। ঠিক একইভাবে স্বাগতিক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ভরসা রাখছেন নিজেদের বোলারদের ওপর, আরো নির্দিষ্ট করে বললে নিজেদের পেস আক্রমণের ওপর। দলে আছেন সময়ের অন্যতম সেরা তিন পেসার – মিশেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্স। তিনজনেরই একাদশে ডাক পাওয়া চূড়ান্ত। সাইড বেঞ্চে থাকবেন জ্যাকসন বার্ড ও চ্যাড সেয়ার্স।
স্মিথ বলেন, ‘ওদের নেটে বল করতে দেখাটা দারুণ এক্সাইটিং। আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। সবাই ভালো পারফর্ম করতে মুখিয়ে আছে। আশাকরি ভালো কিছুই হবে। এবার হবে সত্যিকারের খেলা।’
এবার তাহলে রোমাঞ্চকর এই মহারণের অপেক্ষা করা যাক!