শিরোপা বার্সাকে দিয়েই দিল রিয়াল!

খেলাধুলা প্রধান খবর ফুটবল

স্প্যানিশ লা লিগার ইতিহাস ভালোমতো জানা থাকলে জিনেদিন জিদান নিশ্চয়ই কপাল চাপড়াচ্ছেন! অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে গোলশূন্য ড্র করার টেবিলে শীর্ষস্থানীয় বার্সেলোনার সঙ্গে ১০ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে তাঁর দল। স্প্যানিশ লা লিগার ইতিহাস বলছে, এত বড় ব্যবধান থেকে কোনো দলই ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পরিসংখ্যান সাক্ষী মানলে লিগ শিরোপা জিতেই নিয়েছে বার্সা!

১২ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আর্নেস্তো ভ্যালভার্দের দল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সমান ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় রিয়াল। আরও ২৬টি করে ম্যাচ খেলবে দুই দল। মাঠের লড়াইয়ে শিরোপার নিষ্পত্তি ঘটতে এখনো অনেক পথ বাকি। কিন্তু লা লিগা যারা নিয়মিত অনুসরণ করে, তারা জানে, ১০ পয়েন্ট মানে খেল খতম!

স্পেনের শীর্ষস্থানীয় লিগটির ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো দলই ১০ পয়েন্ট ব্যবধান ঘুচিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। সর্বোচ্চ ৯ পয়েন্ট ব্যবধান ঘুচিয়ে শিরোপা জয়ের নজির আছে। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে রিয়াল মায়োর্কার সঙ্গে ৯ পয়েন্টের ব্যবধান ঘুচিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বার্সা। সেবার ১৪তম ম্যাচে এসে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ছিল মায়োর্কা। ১৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১০ম স্থানে ছিল বার্সা। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে লিগ জিতেছিল লুই ফন গালের দল।

মৌসুমের ১২তম ম্যাচ শেষে টেবিলের শীর্ষস্থান থেকে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকাও রিয়ালের জন্য বেশ বিরল ব্যাপার। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমের পর এবারই প্রথমবারের মতো এই অবস্থান সম্মুখীন হলো ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা। সেবার ১২ ম্যাচ শেষে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে সাতে ছিল রিয়াল। অ্যাটলেটিকোর ঘরেই সেবার শিরোপা উঠেছিল।

তবে জিদান কিন্তু হাল ছাড়েননি। এখনো অনেক ম্যাচ হাতে থাকায় রিয়াল কোচ আছেন বার্সার ভুলের অপেক্ষায়। অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগির পর জিদানের ভাষ্য, ‘আমাদের মধ্যে এখনো অনেক পয়েন্ট আছে। তবে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে কারণ, বার্সেলোনা সব সময় জিতবে না, আর আমরা তখন তাঁদের টপকে যেতে প্রস্তুত থাকব।’

খেলা বলেই তাতে অনিশ্চয়তা থাকে। খেলার মজাটা তো এখানেই। আগে কখনো হয়নি বলে এবারও হবে না, কে বলেছে। রিয়ালের আশা সেখানেই। সূত্র: মার্কা।

পরিসংখ্যানে অ্যাটলেটিকো-রিয়াল ম্যাচ:
* দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করল রিয়াল মাদ্রিদ। অ্যাটলেটিকোর সঙ্গে তারা সর্বশেষ গোলশূন্য ড্র করেছিল ২০০৫ সালের মে মাসে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। অ্যাটলেটিকোর মাঠে রিয়াল এর আগে সর্বশেষ গোলশূন্য ড্র করেছিল ১৯৯৩ সালে।
* লা লিগায় ৭৮৪ দিন পর কোনো দলের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করল রিয়াল। সর্বশেষ ২০১৫ সালে মালাগার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল তারা। ম্যাচের হিসেবে এটা রিয়ালের ৮১ ম্যাচ পর গোলশূন্য ড্র।
* কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে এই প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের মাঠে গোল করতে ব্যর্থ হলো রিয়াল (৩৫ ম্যাচ)।
* সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ নিয়ে ৭২৩ মিনিট গোলখরা (টানা ৭ ম্যাচ) চলছে আন্তোনে গ্রিজম্যানের। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের খেলোয়াড় হিসেবে এর আগে কখনোই এত বাজে পরিস্থিতির সম্মুখীন হননি এ ফরাসি স্ট্রাইকার।
* ১৯৬৭ সালে ভিসেন্তে ক্যালদেরনে প্রথম ‘মাদ্রিদ ডার্বি’ জিততে ব্যর্থ হয়েছিল অ্যাটলেটিকো। তার আগে অ্যাটলেটিকোর ভেনু ছিল এস্তাদিও মেট্রোপলিতানো ডি মাদ্রিদ। এ মাঠেও প্রথম ‘মাদ্রিদ ডার্বি’ জিততে ব্যর্থ হয়েছিল অ্যাটলেটিকো (০-৩, ১৯২৯ সাল)। ২০১৩ সালে এই মেট্রোপলিতানো ডি মাদ্রিদ ভেনু পুনরায় অধিগ্রহণের পর সংস্কার করে ‘ওয়ান্ডা মেট্রোপলিতানো’ নাম রাখে অ্যাটলেটিকো। কিন্তু নাম পাল্টালে কী হবে, এই স্টেডিয়ামে প্রথম ‘মাদ্রিদ ডার্বি’তেও জয়বঞ্চিত থাকল অ্যাটলেটিকো।