শূন্য হাতেই ফিরছেন মুস্তাফিজ

ক্রিকেট খেলাধুলা

২০১৬ আইপিএলে প্রথমবার সানরাইজার্স হাদরাবাদের হয়ে বল হাতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। সেবার শিরোপাটাও প্রথম ঘরে তুলেছিল ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন হায়দরাবাদ। সেই আসরে মোস্তাফিজ এতোটাই সফল ছিলেন যে, তার সঙ্গে কথা বলতে পারার স্বার্থে স্বয়ং কোচ টম মুডি ও ক্যাপ্টেন ওয়ার্নার গুগল টান্সলেটে বাংলা শিখতে শুরু করেছিলেন।

তবে রেশটা ধরে রাখতে পারেননি বাংলাদেশের এই বিস্ময় বোলার। পরের আসরেই বল হাতে মোস্তাফিজকে দেখা গেছে সুপার ফ্লপ। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে খেলতে পেরেছিলেন মাত্র ১টি ম্যাচ। সে তুলনায় এবারের আসরে দল পাল্টে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে সুযোগ পেয়েছেন ৭টি ম্যাচ। এর মধ্যে প্রথম টানা ৬ ম্যাচ তাকে একাদশে রেখেছিলেন মুম্বাই কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে। এর পর গতকাল খেললেন সবশেষ ম্যাচটি। কিন্তু এই ৭ ম্যাচের ২-৩টি বাদ দিলে চেনা মোস্তাফিজ যেন ছিলেন পুরো অচেনা।

৭ ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন ৭টি। সেটিও খুব সমস্যা ছিল না। মোস্তাফিজকে এবার পোড়াবে তার রান রেটটি। ২০১৬ আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে যেখানে ৬.৯০ গড়ে রান দিয়েছিলেন, এবার সেখানে তিনি খরচ করেছেন ৮.৩৬ রেটে। তার সঙ্গে অনেকটাই বেমানান।

মোস্তাফিজের সেটি অবশ্য অজানা নয়। নিজেও নিশ্চয়ই আরেকটু কৃপণ বোলিংই করতে চেয়েছেন। কিন্তু হয়নি। উইকেটশিকার করবেন আবার ডেথ ওভারে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে চেপে ধরবেন—এ দুটি সেবা পেতেই তো তাকে দলে নেওয়া। এবার আইপিএলে ম্যাচ সংখ্যা অনুযায়ী উইকেট শিকারে মোস্তাফিজ খুব একটা পিছিয়ে না থাকলেও ডেথ ওভারে প্রত্যাশার পুরোটা মেটাতে পারেননি।

সব মিলিয়ে মোস্তাফিজের এবারের আইপিএলটা যে ভালো যায়নি সেটা বলাই যায়। আর তাই তো আশায় বুক বেঁধে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও তার দেশে ফেরাটা হচ্ছে সাদামাটা। দল ছিটকে পড়ায় মোস্তাফিজকেও এবার ফিরতে হচ্ছে অনেকটা খালি হাতেই।