শৌচাগারে বসবাস ১৯ বছর

অন্যান্য অসহায় মানুষদের পাশে

নাম তাঁর কারুপ্পাই। বয়স ৬৫ বছর। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মধুরাই শহরে শৌচাগার পরিষ্কার করে দিনে ৭০ থেকে ৮০ রুপি আয় তাঁর। দৈনন্দিনের আয় দিয়ে কোনোমতে জীবনযাপন করেন। থাকার ঘর নেই তাঁর। তাই তাঁর বসবাস শৌচাগারের ভেতরে। প্রায় দুই দশক ধরে এভাবেই সেখানে থাকছেন ওই বৃদ্ধা। তাঁর করুণ জীবনকাহিনি প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন।

ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের মতে, ১৯ বছর ধরে কারুপ্পাই মধুরায় শহরের রামনাদ এলাকায় একটি সরকারি শৌচাগারে বসবাস করছেন। এএনআইকে কারুপ্পাই বলেন, ‘আমি বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পাইনি। আমি অনেক সরকারি কার্যালয়ে ঘুরেছি ভাতার জন্য। কিন্তু পাইনি কিছুই।’ তিনি আরও বলেন, ‘শৌচারগার পরিষ্কার করে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ রুপি আয় হয়। এই আয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকা অসম্ভব। তাই শৌচাগারেই কাটছে বছরের পর বছর। আমার একটি মেয়ে রয়েছে। কিন্তু সে কখনো আমাকে দেখতে আসে না।’

কারুপ্পাইয়ের শৌচাগারে বসবাসের খবর ও তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা সয়লাব হয়ে যায়। অনেকে তাঁকে সাহায্য করার প্রস্তাবও দিচ্ছেন। অনেকে আবার সরকারি কার্যালয়কে ট্যাগ করে কারুপ্পাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে আসতে অনুরোধও জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই কারুপ্পাইয়ের বয়স্ক ভাতা না পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তাঁরা বলেছেন, একজন অসহায় বয়স্ক নারী যদি ভাতা না পান, তাহলে পাবেন কে? এই ঘটনায় দায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।