‘সতী নারী চিনিবার উপায়’

পরামর্শ লাইফস্টাইল

‘সতী নারী চিনিবার উপায়’

এই ধরনের শিরোনামযুক্ত চটি বই আমাদের বয়েসী অনেকেরই নজরে পড়ার কথা। আমার মনে হয় প্রগতিবাদী ছেলেগুলিই বিয়ের আগে আগে এই সব বই বেশি করে পড়ত। আমার নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তাই মনে হয়েছে।

আমি তখন একটি বিদেশী জাহাজে সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত। কিছু দিন পর বুয়েট থেকে নেভাল আর্কিটেক্ট পাশ করা একজন বাংলাদেশী ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগ দিয়েছেন। একাডেমিক ইয়ারে এক বছর সিনিয়র হলেও এখানে আমার অধীনস্ত হিসাবেই যোগ দিয়েছেন। ফলে বয়সের কারণে তার সাথে এক ধরনের নৈকট্য সৃষ্টি হয়ে পড়ে।

সেই জাহাজে থার্ড ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন একজন পাকিস্তানী। বয়সে আমাদের দুজনের থেকে অনেক সিনিয়র।

এই ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার বুয়েটে থাকাকালীন সময়ে একটি প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো এই দুজনের মধ্যে (বয়সে অনেক ব্যবধান হলেও) অত্যধিক বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়ে পড়েছে। বিহারী সেই থার্ড ইঞ্জিনিয়ার তার জীবনের সব গল্প তার বাঙালী জাহাজী বন্ধুটির সাথে করে। সে মূলত একজন নারী খোর। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার কয়েক হাজার (তার দাবি মত চার হাজার) মেয়েকে তার শয্যা সঙ্গী করেছে এবং সবার নাম নাকি তার ডায়েরিতে লেখা রয়েছে।

১৯৭১ সালে এই লোকটি বাংলাদেশে ছিল এবং অন্যান্য যুদ্ধবন্দীদের সাথে ইন্ডিয়া হয়ে দেশে ফিরে। এখনও (১৯৯৬ সাল) চিটাগাং পোর্টে গেলে তাঁর আগেকার সেই পেয়ারা বন্ধুরা চাহিদা মত মেয়ে সরবরাহ করে। গতবারের সরবরাহকৃত মেয়েটি ছিল নাকি খুবই কচি। এই ধরনের মজার মজার গল্প এখন বাঙালী বন্ধুটির সাথে করে। তাদের মাঝে মাত্রাতিরিক্ত বন্ধুত্ব ও নৈকট্য সৃষ্টির মূল কারণটি হলো এই।

এসব দেখে একদিন তাকে বলি, নিজে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে রাজনীতি করেছেন। কয়েক লাখ মা বোনের ইজ্জত নিয়ে অনেক বক্তৃতা করেছেন। অথচ আজ এই লম্পট বিহারী লোকটিকে নিজের বন্ধু বানিয়ে ফেলেছেন। আমি নিশ্চিত তার লিষ্টের কয়েক শ মেয়ে হয়তো ১৯৭১ সালে ভিক্টিম হয়েছে। অথচ এর সাথে বন্ধুত্ব করতে বা তার গল্প শুনতে আপনার একটুও খারাপ লাগছে না। সত্যি এ এক আজব রসায়ন।

সে নিজেও ছিল একই চরিত্রের। পাড়ার এক ভাবির সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিল। সেই পরকীয়া প্রেমিকা একদিন বলে, তুমি যে কী না! গতকাল প্রায় ধরা খেয়ে গিয়েছিলাম। গলায় দাগ দেখে স্বামী ধন জিজ্ঞেস করে, এসব কী? আমি বলেছি, পিঁপড়ার কামড়।

তার এই গল্প শোনে আমি বলি, ভবিষ্যতে নিজের স্ত্রীর গলায় পিঁপড়ার কামড়ের দাগ দেখলে তখন অন্য কিছু সন্দেহ করে বসবেন। এটাই আপনাদের জন্যে নির্ধারিত শাস্তি।

অন্তত বিশটি দাঁত বের করে তার জবাবটি ছিল, ‘আরে ভাই আমাকে এত বোকা ভেবেছেন? আমি বিয়ে করব দেখে শুনে এক নামাজী ও পর্দানশীন মেয়েকে।’