সাকিবদের পাশাপাশি মুস্তাফিজদের আরেক প্রতিপক্ষ মশা!

ক্রিকেট খেলাধুলা

প্রথম ম্যাচে হারের পর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাঠে নামবে মুস্তাফিজুর রহমানের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রতিপক্ষ হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাঠে নামার পরিকল্পনার আগে আরেক প্রতিপক্ষ সামলাতে ব্যস্ত মুস্তাফিজ-রোহিত শর্মারা।

নতুন এই প্রতিপক্ষের নাম ‘মশা’। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে অনুশীলনেই মশার অত্যাচারে নাজেহাল মুস্তাফিজরা। মঙ্গলবার থেকে এই স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করেছে মুম্বাই। এই মশার হাত থেকে বেঁচে বৃহস্পতিবার ম্যাচ খেলতে নামতে হবে, এটাই এখন দুশ্চিন্তার ছাপ ফেলেছে মুম্বাই শিবিরে।

মঙ্গলবার মাঠে ঢুকেই নিজেদের ড্রেসিং রুমে চলে যায় মুম্বাইয়ের ক্রিকেটাররা। আর সেখানে গিয়েই ভয় পেয়ে যান তারা। মশায় পুরো রুম যেন অন্ধকার হয়ে আছে। কোথাও বসারও উপায় ছিল না। একাধিকবার চাওয়ার পর কয়েকটি মশা মারার ব্যাট দিয়ে যায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। সেই ব্যাট দিয়ে নিজেরাই মশা মারতে শুরু করেন। এগিয়ে আসেনি কোনো স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ।

দুর্দশার এখানেই শেষ নয়। এরপর মাঠে নেমেও মশার অত্যাচারে পালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় ক্রিকেটারদের। কেউ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পর্যন্ত থাকতে পারেননি। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এমন পরিস্থিতি দেখে। মুম্বাইয়ের এক ক্রিকেটার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘শিগগিরই এর প্রতিকার না হলে যে কোনো সময় যে কেউ ম্যালেরিয়া বা অন্য কোনোভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।’

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের এক কর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘দ্রুত আমরা ওডোমস (মশা মারার ওষুধ) আনিয়েছি। এখানে ক্রিকেটাররা অসুস্থ হয়ে পরলে দায় কে নেবে? স্থানীয় কিছু লোক এসে খুবই বাজে স্প্রে করেছে, যাতে এখন আর রুমেই যেতে পারছে না ক্রিকেটাররা। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।’

শুধু মুম্বাই নয়। বুধবার একই মাঠে খেলে যাওয়া রাজস্থান রয়্যালসের এক ক্রিকেটারো একই অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরো মাঠ মশায় ছেয়ে থাকে। আর অবাক করা বিষয় এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমাদের ম্যাচ ছিল এবং হ্যাঁ আমরা খুবই বাঝে সময় কাটিয়েছি।’

এমন অব্যবস্থার জন্য হায়দরাবাদ ক্রিকেট সংস্থার দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠছে। এমনিতেই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে হায়দরাবাদ সংস্থার একাধিক কর্তাকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে। এই মুহূর্তে কারা যে সংস্থার কাজ পরিচালনা করছেন, তা নিয়েই ধোঁয়াশা রয়েছে।