সিলেটকে জেতালেন যে খেলোয়াড়

ক্রিকেট খেলাধুলা প্রধান খবর

উদ্বোধনী ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসের দেওয়া ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে কোনো বেগ পেতে হয়নি সিলেট সিক্সার্সকে। আজ সেই রানের থেকে ৯ রান বেশি তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে ম্যাচ জিতেছে সিলেট। টানা দুই ম্যাচ জিতে সিলেট সিক্সার্স চমকে দিয়েছে পুরো বিপিএলকে।

গতকাল ঢাকা সহজ টার্গেট দিয়ে কোনো লড়াই করেনি। কিন্তু কুমিল্লা এদিক থেকে ব্যতিক্রম। স্বল্প পুঁজি নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়া্ই করেছে তারা। তবে ম্যাচের শেষ দিকের রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দিয়েছিল দুই দল। শেষ ওভারে ১০ রানের লক্ষ্য ছিল সিলেটের। ব্রাভোর করা প্রথম বলেই বোল্ড শুভাগত।

পরের বলেই ছক্কা। ক্রিজে নেমে ব্রাভোর স্লো বল দারুণভাবে পিক করে লং অন দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠান সোহান। পরের দুই বলে আরও দুই রান। শেষ দুই বলে লক্ষ্য ছিল ২ রান। ব্যাটিংয়ে আবার সেই সোহান। তাকে এগিয়ে আসতে দেখে অফস্ট্যাম্পের বাইরে বল দিলেন ব্রাভো। কিন্তু দুর্দান্ত সোহান খোঁচা দিয়ে থার্ড ম্যান অঞ্চল দিয়ে বল পাঠালেন বাইন্ডারিতে। এক বল হাতে রেখেই জয় সিলেটের।

বল বাউন্ডারিতে যাওয়ার আগেই পুরো সিলেট দল ঢুকল মাঠে। এক হাতে ব্যাট উঁচিয়ে আরেক হাতে হেলমেট ধরে বিজয় উৎসব করলেন সিলেটের নায়ক সোহান। শেষ দিকে তার ৩ বলে ১১ রানের ইনিংস সিলেটের জয় পেতে বড় ভূমিকা রাখে।

১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেটের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আবারও দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। ৭৩ রানের জুটি গড়েন দুজন। তাদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল আজও সহজেই জয় পাবে সিলেট। কিন্তু নবম ওভারে এ জুটি ভেঙে দলকে ম্যাচে ফেরান ব্রাভো। ৩৬ রানে আউট হন ফ্লেচার। এররপর সাব্বির রহমান ও উপল থারাঙ্গা দ্রুত ফিরলেও নাসির ছিলেন দুর্দান্ত। ৪০ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫১ করে আউট হন থারাঙ্গা। সাব্বিরের ব্যাট থেকে আসে ৩ রান। দ্রুত উইকেট হারানোর পর নাসির প্রতিরোধ গড়ে করেন ১৮ রান। কিন্তু রশীদ খানের দারুণ বোলিংয়ে নাসির ফিরলে ম্যাচ কিছুটা কুমিল্লার দিকে ঝুঁকে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সোহানে রক্ষা সিলেটের। শেষ দিকের রোমাঞ্চে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন জাতীয় দলের হয়ে ৯ টি-টোয়েন্টি খেলা সোহান। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন মোস্ট এক্সসাইটিং প্লেয়ারের পুরস্কার। আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচ সেরা উপল থারাঙ্গা।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ কোনো কাজে আসেনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। টপাটপ উইকেট হারানোয় হয়নি বড় কোনো জুটি। জুটি বড় না হওয়ায় কোনো ব্যাটসম্যানই খেলতে পারেননি সাবলীলভাবে।

একমাত্র ব্যতিক্রমী মারলন স্যামুয়েলস। তিনে নেমে শেষ ওভার পর্যন্ত উইকেটে টিকে ছিলেন ক্যারিবীয় এ ব্যাটসম্যান। ইনিংস শেষ হওয়ার পাঁচ বল আগে আউট হওয়ার সময় তার নামের পাশে সর্বোচ্চ ৬০ রান। ৪৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন অলোক কাপালি। চতুর্থ উইকেটে এ দুই ব্যাটসম্যান সর্বোচ্চ ৪২ রানের জুটি গড়েন।

তামিমের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে বড় দায়িত্ব পালন করার কথা ইমরুল কায়েস। কিন্তু জাতীয় দলে ফ্লপ ইমরুল নিজেকে হারিয়েছে বিপিএলের প্রথম ম্যাচ। বাউন্ডারি মেরে রানের খাতা খুললেও রান করেছেন মাত্র ১১। লিটনও আশা জাগিয়ে বড় কিছু করতে পারেননি। ১৯ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় করেছেন ২১ রান। শেষ দিকে ব্রাভোর ৯ বলে ১১ রানের ইনিংসে ১৪৫ রানের পুঁজি পায় বিপিএলের তৃতীয় আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

বল হাতে সিলেটের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম ও ক্রিসমার সান্তোয়কি। ডানহাতের ঘূর্ণিতে নাসিরও পেয়েছেন ১ উইকেট।