সিলেটের ক্রিকেটারদের মধ্যে চাপা কষ্ট

ক্রিকেট খেলাধুলা প্রধান খবর

ইশতিয়াক পারভেজ, সিলেট থেকে : হ্যালো! কি ভাই আপনার শহরে বিপিএল হচ্ছে, আপনি যে মাঠে নেই! অপর প্রান্ত থেকে শোনা গেল একটি ভারি দীর্ঘশ্বাস।

কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর রাজিন সালেহ বলতে শুরু করেন, ‘১৭ বছর ধরে সিলেটের হয়ে জাতীয় লীগে (এনসিএল) খেলছি। আগামী বছরই ১৮ বছর শেষ করে বিদায় নিব, সিলেটের হয়ে জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্বও করেছি, ভালো খেলেছি বা খারাপ- সেটি পরে বিবেচনায় আসবে। হয়তো অনেক বড় ক্রিকেটারও ছিলাম না।

এখনও জাতীয় দলের খেলা হলে আমরা টিকিট পাই, টিকিট পৌঁছে যায়, আশা করি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাবো। কিন্তু সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনে আমাদের কোনো মূল্যায়ন নেই। ভবিষ্যতে হবে কি না তা-ও জানিনা। বিপিএল আমাদের শহরে হচ্ছে, কিন্তু আমাদের দল সিলেট সিক্সার্সতো পরের বিষয়, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা একটি ফোন করেও বলেনি তোমাদের জন্য কোনো টিকিট রেখেছি। এর চেয়ে বড় দুঃখ আর কী হতে পারে আমাদের জন্য বলেন?’

শুধু রাজিন সালেহই নয়, জাতীয় দলে খেলা সিলেটের সাবেক কোনো ক্রিকেটারই বিপিএলের ৫ম আসরের টিকিট পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। সিলেটের সন্তান জাতীয় দল থেকে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র তো রাগে-ক্ষোভে কথা বলতেই চাইলেন না।

কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর শুধু বললেন, ‘বিষয়টা এতই বিব্রতকর- আমি এ নিয়ে কথা বলতেই চাই না।’ এ প্রতিভাবান ক্রিকেটার অবশ্য এবার কোনো দলেও খেলার সুযোগ পাননি।সিলেট বিভাগকে একটা সময় রাজিন সালেহ ছাড়াও জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন অলক কাপালী, তাপস বৈষ্য, পেসার নাজমুল হোসেন। বৈষ্য বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন, আর অলক সিলেট দলে জায়গা না পেলেও খেলছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে।

শুধু জাতীয় দলেরই নয়, এখনকার লীগ খেলা কোনো ক্রিকেটারও টিকিট পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সিলেট জেলা ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি  (কোয়াব) রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ‘রাজিন সালেহ শুধু জাতীয় দলেরই ক্রিকেটার নয়, সে সিলেট কোয়াবের সাধারণ সম্পাদকও। আমরা এ বিষয়ে সাবেক অধিনায়ক ও কোয়াবের সভাপতি নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে অভিযোগ করেছি। তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আমাদের স্বল্পসংখ্যক টিকিটও দিয়েছেন।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘তবে এটি খুবই লজ্জার বিষয় আমাদের লোকাল ক্রিকেটাররা বিপিএল থেকে কোনো সম্মান পাননি। যদি সিলেটের বাইরে হতো, তাহলে আমাদের এ আফসোস থাকতো না। কিন্তু নিজ শহরে এমন একটি আয়োজনে ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ততা না থাকাটা খুবই কষ্টের।’

অন্যদিকে সিলেটের ক্রিকেটারদের টিকিট না পাওয়া নিয়ে আফসোস ও দুঃখ প্রকাশ  করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান ও খালেদ মাসুদ পাইলট।

এ বিষয়ে বিসিবি পরিচালক হিসেবে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত আকরাম খান বলেন, ‘এটি যদিও সিলেট বিভাগের ক্রিকেট সংগঠকদের বিষয় আমার বলা ঠিক নয়; তার পরও আমি মনে করি জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের টিকিট পাওয়া উচিত ছিল। আমি দ্রুত বিষয়টি জেনে এর ব্যবস্থা করছি।’

খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সব সময় আলাদাভাবে টিকিট দেয়া হয়। এটি তাদের প্রতি একটি আলাদা সম্মান। আর সিলেটে প্রথমবারের মতো এমন একটি আয়োজনে এখানকার যারা জাতীয় দলে খেলেছেন তাদের তো আরো সম্মান প্রাপ্য।

এখানে টিকিট তো পরের কথা, যারা সিলেটকে জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাদের সামনে রেখে কাজ করলে বরং এখানে ক্রিকেট প্রজন্মও উৎসাহিত হতো। আমার মনে হয়, বিষয়টি ভেবে দেখবেন এখানকার ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

রাজিন জাতীয় লীগে সিলেটের হয়ে খেলা শুরু করেন ২০০০-২০০১ মওসুমে। একই বছর লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও খেলা শুরু করেন তিনি। জাতীয় দলে খেলেছেন ২০০৩ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত। অবশ্য জাতীয় লীগে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরুর আগে তিনি সিলেটের ঘরোয়া লীগে খেলেছেন আরো দুই তিন বছর।

প্রায় ১৯ বছর ধরে সিলেটের ক্রিকেটে রাজিনের অবদান পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তাই নিজ শহরে এভাবে অবহেলিত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া তাদের অবশ্য কিছু করার নেই বলেই জানান রাজিন। এমজমিন