সুন্দরবনের নদী ও সাগর দেখা মিলবে নান্দনিক তিমি ডলফিনের

অন্যান্য বাংলাদেশ

এ লক্ষ্যে সরকার ডলফিন ও তিমি সংরক্ষণে সুন্দরবনের সব নদী ও বঙ্গোপসাগরের ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা সংরক্ষিত ঘোষণা করেছে।

একই সঙ্গে ওই এলাকায় সব ধরনের মত্স্য শিকার নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুন্দরবন এলাকায় ডলফিনসহ ১১ ধরনের জলজ প্রাণী রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকায় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইউএনডিপির সহযোগিতায় বন বিভাগ ‘গুরুত্বপূর্ণ জলজ প্রতিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য রক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ’ নামের এ প্রকল্পটি নিয়ে কাজ  করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। অর্থায়ন করছে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি। এটি বাস্তবায়ন হলে বন বিভাগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং তিমি ও ডলফিনের বিলুপ্তি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে যাত্রা শুরু হলেও এর মূল কার্যক্রম শুরু হয় একই বছরের ১৭ অক্টোবর থেকে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে সুন্দরবনে ১০.০৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ডলফিনের জন্য তিনটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে।

সরকার ডলফিন রক্ষায় ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরের প্রকল্প গ্রহণ ও কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। এ ছাড়া ডলফিনের আশ্রয়কেন্দ্রের ‘ডেটাবেজ’ তৈরি এবং সুন্দরবন সন্নিহিত এলাকার মত্স্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করারও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এ দেশের জলজ প্রাণী ডলফিন। এ প্রাণীর নাম শুনলেই নদী ও সাগরের এক মনোরম প্রাণীর অবয়ব সবার চোখে ভেসে ওঠে। পানিতে প্রাণবন্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে মানুষের মন ভরিয়ে তোলায় যেমন তার নাম আছে, তেমনি সাগরে বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করার নজিরও রয়েছে এ প্রাণীর। বাংলাদেশের নদ-নদীতেও ডলফিনের বিচরণ রয়েছে। এখানে কোথাও এ প্রাণী শুশুক, আবার কোথাও কোথাও শোষ প্রভৃতি নামে পরিচিতি পেয়েছে। সুন্দরবনের নদীগুলোতেও ইরাবতী ও গঙ্গার ডলফিন নামে সুন্দর দুই প্রজাতির ডলফিনের বসবাস রয়েছে। সংখ্যায়ও কম নয়। নানা কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও সাগর এলাকায় ডলফিনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

বন বিভাগ জানায়, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের নদ-নদীতে ইরাবতী ও গাঙ্গেয় ডলফিনসহ মিষ্টি পানির ১০ প্রজাতির জলজ প্রাণীর বিচরণ রয়েছে। এর মধ্যে ডলফিন আছে সাত প্রজাতির। তিমি রয়েছে তিন প্রজাতির। সুন্দরবনের নদ-নদী ইরাবতী ও গাঙ্গেয় ডলফিনের বিচরণের জন্য বেশ সহায়ক।

সুন্দরবন বন বিভাগ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সুন্দরবনে ডলফিন বিলুপ্তির জন্য প্রাথমিকভাবে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সুন্দরবনের নদ-নদীতে চলাচলরত নৌযানের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়া। অপরিকল্পিত পর্যটনের কারণে ক্রমবর্ধমান পর্যটক সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। এছাড়া পর্যটক ব্যবহৃত বর্জ্যদ্রব্য নদীতে নিক্ষেপ ও বিভিন্ন জলযানের তেল নিঃসরণের কারণে পানিদূষণ বেড়ে যাওয়া, মত্স্য শিকারিদের মাত্রাতিরিক্ত সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ করা, মাছ শিকারের জন্য নদ-নদীতে বিষপ্রয়োগ ও কারেন্ট জালের অপব্যবহার। বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবনের চাঁদপাই, দুধমুখী ও ঢাংমারী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ডলফিন বিচরণ করে। এ তিনটি স্থানকে ডলফিন হটস্পট বলা হয়। কিন্তু সুন্দরবনের এই তিনটি এলাকায়ই নৌযান চলাচল বেশি করে থাকে। সুন্দরবনে বর্তমানে বড় বড় জাহাজসহ ১৭ ধরনের নৌযান চলাচল করে। এসবের মধ্যে ৯৫ শতাংশই চলাচল করে ডলফিনের উপরোক্ত তিনটি হটস্পট দিয়ে। এমনকি বিগত ২০১৬ সালে শেলা নদীতে তেলবাহী জাহাজডুবির যে ঘটনাটি ঘটে, সেটি ছিল ডলফিন হটস্পটের একবারে মাঝখানে। বন বিভাগ বলছে, ২০১২ সালে প্রণীত আইন অনুযায়ী কেউ ডলফিন অথবা তিমি শিকার করলে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে।