সুন্নি মুসলিমদের নেতৃত্ব দিতে চায় ইসরাইল, তারবার্তা ফাঁস!

আন্তর্জাতিক প্রধান খবর

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার সুযোগে সুন্নি মুসলিমদের নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিয়াপন্থী ইরান ব্লকের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন উপসাগরীয় দেশগুলোকে সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দখলদার দেশটি। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক কূটনৈতিক তারবার্তায় (কেবল) এমন পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে বলে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অব্যাহত উত্তেজনায় ইন্ধনের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও ইসরাইলের গোপন আঁতাত রয়েছে এমন গুঞ্জনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে এর সত্যতা মিলল।

ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক তারবার্তায় দেখা যায়, ইসরাইল বিভিন্ন দেশে তার দূতাবাসগুলোকে সৌদি আরবকে সমর্থন এবং লেবাননকে অস্থিতিশীল করতে দেশটির অব্যাহত প্রচেষ্টার পক্ষে লবিং জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছে।

ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত এই তারবার্তা ফাঁস করেছে দেশটির চ্যানল-১০ নিউজ। এতে জোর দিয়ে বলা হয়, ইরান এবং হেজবুল্লাহর যৌথ কার্যক্রম এই ‘অঞ্চলের জন্য ধ্বংসাত্মক।’

এমন সময় এই কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হলো যখন সৌদি আরবে এসে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। ইরান ও হেজবুল্লাহ ব্লকের প্রতি ইঙ্গিত করে রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকেই এই পদত্যাগ।

তবে লেবাননকে অস্থিতিশীল করতে সৌদি আরব সাদ হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করেছে সাদ হারিরি নেতৃত্বাধীন সরকার ও তার দল। এমনকি তাকে সৌদি আরবে আটকে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন লেবানন সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

অন্যদিকে হেজবুল্লাহ নেতা হাসান নসরুল্লাহ বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের সুযোগ করে দিতেই সৌদি আরব সাদ হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। তার পদত্যাগ ‘অবৈধ’।

এদিকে সৌদি আরব, কুয়েত ও বাহরাইন তাদের নাগরিকদের লেবানন ত্যাগের নির্দেশ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে পারে ইসরাইল। সম্প্রতি দেশটির বেশ কয়েকটি সামরিক মহড়ায় এই আশঙ্কা আরও প্রকট হয়েছে।

কয়েক দিন আগে ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। তবে এনিয়ে কথার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরব ও ইরান।

এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য ইরানকে দায়ী করে সৌদি আরব। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, এটা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সরাসরি আগ্রাসন। এছাড়া হেজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড লেবানন সরকারের যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবের গালফ অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী।

পাশাপাশি সৌদি আরবের চলমান ধরপাকড়ের নেপথ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের সমর্থন কাজে লাগিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যুবরাজের এই ধরপাকড়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে টুইটও করেছেন ট্রাম্প।

এছাড়া কাতারের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সর্বাত্মক অবরোধের নেপথ্যেও ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রশাসনের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজায় প্রতিরোধ সংগঠন হামাসকে সমর্থন দেয়ার শাস্তি হিসেবে কাতারের ওপর এই অবরোধ আরোপ করা হয়।

ইসরাইলি সাংবাদিক নোয়াম শেইজাফ বলেন, ইসরাইল যে সৌদি আরব এবং অধিকাংশ আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে জোট গড়তে চায় ফাঁস হওয়া তারবার্তায় সেটাই উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইল বুঝতে পেরেছে- সিরিয়া এবং ইয়েমেনে ইরানের কাছে হেরে গেছে সৌদি আরব। তাই তাদের শক্তিশালী সামরিক ও কূটনৈতিক মিত্র দরকার যা ইসরাইলই তাদের দিতে পারবে।’

ইসরাইলি বিশ্লেষক জেফ হালপার বলেন, ‘ইসরাইলের এর চেয়েও বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। এই তারবার্তায় দেখা গেল আপাত অসম্ভব মনে হলেও কিভাবে ইসরাইল সুন্নি বিশ্বের নেতা হতে যাচ্ছে।’