‘সুরসম্রাটের হাত থেকে পুরস্কার পেলাম’

বিনোদন

মঞ্চের দুই পাশের মনিটরে গত কয়েক আসরের সম্মাননা পাওয়া গুণীজনদের স্থিরচিত্র যাচ্ছে আর আসছে। তাতে দেখা যাচ্ছে নীলুফার ইয়াসমিন, ফিরোজা বেগম, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ফেরদৌসী রহমান, সৈয়দ আব্দুল হাদী থেকে শুরু করে গতবারের সম্মাননা পাওয়া রুনা লায়লাকেও। হঠাৎ মনিটরের আলো বন্ধ হয়ে গেল। এমন সময় মঞ্চের পেছন থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অতিথির আসনে এসে বসলেন ফেরদৌস ওয়াহিদ। এদিন খুবই প্রাণোচ্ছল দেখাচ্ছিল তাঁকে। গতকাল শুক্রবার সিটিব্যাংক এনএ বাংলাদেশ থেকে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয় ফেরদৌস ওয়াহিদকে।

ঢাকার পাঁচতারা হোটেল র‍্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেনে গতকাল সন্ধ্যায় ছিল গানে গানে গুণীজন সংবর্ধনার ১৪তম আসর। সাড়ে চারটায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল সংবর্ধনা পাওয়া ব্যক্তির পরিবার ও কাছের মানুষের তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা। ফেরদৌস ওয়াহিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আলাউদ্দীন আলী।

সংবর্ধনা পাওয়ার পর প্রথম আলোকে এই শিল্পী বলেন, ‘আলাউদ্দীন আলী ভাইয়ের হাত থেকে জীবনের এত বড় একটা সম্মাননা পাব, জীবনেও কল্পনা করিনি। তাঁকে আমি সব সময় সুরসম্রাট বলেই মানি। সুরসম্রাটের হাত থেকে পুরস্কার পেলাম। এটি আমার পুরো জীবনের জন্য বিরাট অভিজ্ঞতা ও আনন্দের বিষয় হয়েই থাকবে।’

এদিকে ফেরদৌস ওয়াহিদকে পুরস্কার তুলে দিতে পেরে তৃপ্ত সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলীও। তিনি বলেন, ‘আমি এমন পুরস্কার এর আগে আরও দু-একজনের হাতে তুলে দিয়েছি। কিন্তু একজন প্রকৃত শিল্পীর হাতে পুরস্কার তুলে দিতে পেরে আমার ভালো লাগাটা কাজ করছে বেশি।’

সম্মাননা দেওয়ার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিটিব্যাংক এনএ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিটি কান্ট্রি অফিসার এন রাজাশেকারান। তিনি বলেন, ‘আমি যত দূর জানতে পেরেছি ফেরদৌস শুধু গান নয়, অভিনয় ও পরিচালনায় তাঁর অবদান আছে। তিনি একজন পরিপূর্ণ শিল্পী। তাঁকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা সম্মানিত বোধ করছি।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছিল গান। শুরুতেই হাবিব ওয়াহিদ বাবার গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘আগে যদি জানতাম’ গেয়ে শোনান। এরপর হয় ফেরদৌস ওয়াহিদের আরও ছয়টি গান। গানে গানেই শেষ হয় গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের এবারের আসর।