সেরা পারফরমেন্সের পরও কেন ম্যাচসেরা নন সাকিব?

ক্রিকেট খেলাধুলা

ক্রিকেট দলগত খেলা হলেও ভদ্রলোকের খেলা খ্যাত এই ক্রীড়া ইভেন্টেও থাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব। মূলত ম্যাচে যে খেলোয়াড়ের অবদান থাকে সবচেয়ে বেশি, কিংবা যার পারফরমেন্স ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সাহায্য করে; ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন তিনিই।

সেরা পারফরমেন্সের পরও কেন ম্যাচসেরা নন সাকিব?

সেই হিসেবে শনিবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার ম্যাচে নির্দ্বিধায় ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখতেন সাকিব। দলের হয়ে বল করতে নেমে ঘাম ঝরিয়েছেন পূর্ণ চার ওভারেই। সেখানে আঁটসাঁট বোলিংয়ে খরচ করেছেন মাত্র ২১ রান, বিনিময়ে তুলে নিয়েছেন দুটি উইকেট। তাও উইকেট দুটি ক্রিস লিন (যিনি ৩৩ বলে ৪৯ রান করে বিপদের সংকেত দিচ্ছিলেন প্রতিপক্ষকে, আউট হন সাকিবের বলে) ও সুনীল নারাইনের (ব্যাট হাতে যাচ্ছে যার দারুণ সময়, ম্যাচে করেছেন ৯ রান)।

সাকিবের অবদান এখানেই শেষ হলে কথা ছিল। অলরাউন্ডার সত্তার পরিচয় রেখে দলের দুঃসময়ে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন মাত্র ২৩ রানেই ৩ উইকেটের পতনের পর। ১৩৯ রানের লক্ষ্যে ছোটা দলকে ৫৯ রানের এক জুটি উপহার দিয়েছিলেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গী করে। দুটি চার আর একটি ছক্কায় ২১ বলে ২৭ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে যখন সাজঘরে ফিরছেন, দল তখন পাচ্ছে জয়ের সুবাস।

সাকিবের ২৭ রানের চেয়ে ইনিংসে বেশি রান ছিল কেবল উইলিয়ামসনেরই- ৫০। সেই উইলিয়ামসন ম্যাচসেরা হলেও কথা ছিল। কিন্তু এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব পেয়েছেন বিলি স্ট্যানল্যাক, যিনি বল হাতে সাকিবের চেয়ে কার্যকরী ছিলেন না মোটেও, আর ব্যাট হাতে তো ক্রিজেই নামেননি!

সাকিব যেখানে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট শিকার করেছিলেন, বিলি শিকার করেছিলেন নিতিশ রানা ও আন্দ্রে রাসেলের উইকেট, যাদের কারও রানই পৌঁছায়নি ২০-এর ঘরে। সাকিবের মতো ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে পারেননি। তবুও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার উঠেছে বিলির হাতেই। ম্যাচ শেষে সাকিবের ম্যাচ জেতানো পারফরমেন্সে মুগ্ধ হওয়া অনেকেই তাই প্রশ্ন ছুঁড়েছেন- এটি কি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের প্রতি অবিচার হয়ে যায়নি?

উত্তরটা দিতে পারে কেবল আইপিএল কর্তৃপক্ষই!