সোশ্যাল মিডিয়ার বেশি ব্যবহারে বাড়ছে মানসিক চাপ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

রাত জেগে ম্যাসেঞ্জার, হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপে আড্ডা দেওয়া কিংবা ফেসবুকের নিউজ ফিড দেখতে দেখতে কখন যে সময় ফুরিয়ে যায়, বুঝতেই পারেন না অনেকে।  আবার সারাদিন কি করল, কোথায় গেল এসব কিছু পোস্ট করে সবাইকে না জানালে চলেই না। অনেকে আবার শেয়ার করা ছবিতে ফলোয়ারেরা ‘রিঅ্যাক্ট’ না করলে মন খারাপ করেন।

প্রায় এক হাজার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীকে নিয়ে ভারতে একটি সমীক্ষা চালিয়েছে এক বেসরকারি সংস্থা।

তাতে দেখা যাচ্ছে, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের মানসিক চাপের কারণ সোশ্যাল মিডিয়া। সেখানে অতিরিক্ত সময় কাটানোয় ৯০ শতাংশ ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। কম ঘুমের জেরে তৈরি হচ্ছে মানসিক চাপ। যার মধ্যে ৬০ শতাংশ সম্পর্ক হারানো বা সামাজিক সম্মান হারানোর মতো বিভিন্ন আশঙ্কায় ভুগছেন।

আবার ১৪ শতাংশ সেই মানসিক চাপ কমাতে অতিরিক্ত তামাকজাত দ্রব্যে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। মোট ব্যবহারকারীর ৮৪ শতাংশ মনে করছেন, তাদের প্রতিদিনের জীবনে পারিবারিক সম্পর্কে কুপ্রভাব ফেলছে সোশ্যাল মিডিয়া।

ওই বেসরকারি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান বি এল মিত্তল এই সমীক্ষা সম্পর্কে বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ব্যক্তিত্ব বিকাশে এই মাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে অবশ্যই। কিন্তু অতিরিক্ত সময় কাটানোর জেরে কম ঘুম, ক্লান্তি ও যে কোনো বিষয়ে অকারণ উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। কমে যাচ্ছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।’

সমীক্ষায় এও উঠে এসেছে, মানসিক চাপে ভুক্তভোগীদের বড় অংশ চাপ কমানোর জন্য বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য ব্যবহার করছেন, কেউ কেউ মদ বা তামাকজাত দ্রব্যের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

মনস্তত্ত্ববিদরা করেন, প্রতিযোগিতার যুগে সোশ্যাল মিডিয়া আরো বেশি ভোগবিলাসী করে তুলছে। ভার্চুয়াল বন্ধুর দামি গাড়ি বা সাজানো বাড়ির ছবি কখনো জাগাচ্ছে ঈর্ষা। কখনও আবার কাল্পনিক শ্রেষ্ঠত্বের গর্ব থেকে তৈরি হয় স্নায়ুজনিত উত্তেজনা। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই অসীম আকারের সঙ্গে মানাতে না পারার জেরে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

আশপাশের সম্পর্কগুলিকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই এর সমাধানের পথ মিলতে পারে, পরামর্শ মনোরোগ চিকিৎসকদের।