সৌদি আরবের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে এবার আটক হলেন দেশটির দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী মোহাম্মদ হুসেইন আল আমাউদি। এর আগে দেশটির শীর্ষ ধনী প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালালকে গ্রেফতারের পর অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

বিন তালালের গ্রেফতারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তার গ্রেফতারে ধস নামে সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জে। দেশটির অর্থনীতিতেও এই ঘটনা প্রভাব ফেলতে পরে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিশ্লেষকেরা। এবার আল আমাউদির গ্রেফতারও দেশটির অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে।

‘দ্য শেখ’ নামে পরিচিত আল আমাউদি সৌদি ও ইথিওপিয়ান দ্বৈত জাতীয়তার নাগরিক। তিনি ইথিওপিয়ার হোটেল ও কৃষিসহ অর্থনীতির প্রায় সব েেত্রই বিনিয়োগ করেছেন। আফ্রিকার দ্রুততম উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ইথিওপিয়া অন্যতম। বিগত দশ বছরে দেশটিতে আল আমাউদির মোট বিনিয়োগের সঠিক মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক বিশ্লেষকের মতে, ইথিওপিয়ায় শেখ মোট ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা দেশটির বর্তমান জিডিপির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

গত ৪ নভেম্বর যুবরাজ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার করা হয় ১১জন প্রিন্সসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন প্রিন্স আল ওয়ালিদ। সৌদি ব্যবসার মূল মুখপাত্র ভাবা হয় তাকে। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের মতে, প্রিন্স ওয়ালিদের সম্পদের পরিমাণ ১৭ বিলিয়ন। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ওয়ালিদ। তিনি সৌদি আরবের সিটি গ্রুপ ইন করপোরেশনের সবচেয়ে বড় একক বিনিয়োগকারী। তাকে গ্রেফতারের পর সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জে ধস নামে। তার মালিকানাধীন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কিংডম হোল্ডিংসের শেয়ারের মূল্য দশ শতাংশ পড়ে যায়। সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জ আরব বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড়।

এবার একই আশঙ্কা আমাউদির গ্রেফতারের পরও। আমাউদি দ্বৈত নাগরিক হওয়ায় অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব আশঙ্কা করা হচ্ছে ইথিওপিয়াতেও। ২০০৮ সালে ফাঁস হওয়া এক কূটনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, ইথিওপিয়ার অর্থনীতিতে আল আমাউদির প্রভাব অনেক। ২০১৩ সালে প্রকাশিত শ্রমিক জোট জরিপ অনুযায়ী, শেখের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় এক লাখ শ্রমিক কাজ করেন। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষকদের দাবি, গত চার বছরে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

সৌদি জোটের নতুন সন্ত্রাসী তালিকায় দুই সংগঠন

আলজাজিরা
নতুনভাবে আরো দু’টি সংগঠন এবং ১১ ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে অবরোধ আরোপ করা আরববিশ্বের চারটি দেশ। সৌদি জোটের দাবি, সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তরা দোহার মদদপুষ্ট।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রায়ত্ত সৌদি প্রেস এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সৌদি জোট এ তালিকা প্রকাশ করেছে। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের সূত্র বন্ধ করা, চরমপন্থী মতাদর্শের বিরোধিতা করা এবং তার প্রচার ঠেকানোই তাদের কাজ। সৌদি আরব, বাহরাইন, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে ওই বিবৃতি দিয়েছে।
ইরানের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোকে সমর্থন, অর্থায়ন ও লালন-পালনের অভিযোগে চলতি বছরের ৫ জুন কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে অবরোধ আরোপ করে সৌদি জোট। তবে বরাবরই সৌদি জোটের দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে আসছে কাতার। নতুনভাবে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত দু’টি সংগঠন হলোÑ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস; মিসরীয় বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা ইসলামী বিশেষজ্ঞ ইউসুফ আল কারজাবী ওই সংগঠনের প্রধান। অন্যটি হলো দোয়া ও ত্রাণবিষয়ক আন্তর্জাতিক ইসলামি কাউন্সিল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত সংগঠন দু’টি সন্ত্রাসবাদ প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি মতাদর্শ ধ্বংস করে দিতে চায়। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছে বলেও দাবি করা হয়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিরাও কাতারের সহায়তায় বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছে। তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো অসুবিধা যেন না হয়, সেই বিবেচনায় কাতারের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় কাজ দেয়া এবং পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরিতে দোহা সহায়তা করেছে। কাতার রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থার পরিচালক খালিদ নাজিম দিয়াব, বাহরাইনের ভিন্ন মতাবলন্বী হাসান আলি মুহাম্মদ জুমা সুলতান এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মাহমুদ ইজ্জাতের নাম রয়েছে তালিকাভুক্ত ১১ জনের মধ্যে।

এ ছাড়া মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা আলা আলি আল সামাহি, মিসরের ভিন্ন মতাবলম্বী কাদরি মুহাম্মদ ফাহমি মাহমুদ শেখের নামও রয়েছে। কাতারের নাগরিক মুহাম্মদ সুলায়মান আল হায়দারও সেই তালিকায় রয়েছেন। বাকিরা মিসর, লিবিয়া এবং সোমালিয়ার নাগরিক। সৌদি জোটের দাবি, কাতার কর্তৃপ ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি’ এবং ‘অঞ্চলের নিরাপত্তা’ রার অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।

প্রাথমিকভাবে দেয়া সন্ত্রাসী তালিকায় কারজাবীর নাম রেখেছিল সৌদি জোট। পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং রাজপরিবারের সদস্যসহ কাতারের ১৮ জন নাগরিকের নাম প্রকাশ করা হয়। দ্বিতীয়বারের দেয়া তালিকায় লিবিয়ার ছয়জন, ইয়েমেনের তিনটি সংগঠনের নাম আসে। সৌদি জোটের দাবি, এরা সবাই আলকায়েদার সাথে সম্পৃক্ত।