স্কয়ারে ‘মৃত শিশুকে’ আইসিইউতে রাখার অভিযোগ (ভিডিও)

রাজধানীর ধানমন্ডির স্কয়ার হাসপাতালে সন্তান জন্মের পর আইসিইউতে রেখে তিন দিনে পাঁচ লাখ টাকা বিল করার ঘটনা নিয়ে তুলকালাম ঘটেছে। এ নিয়ে শিশুর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতাহাতির হয়েছে।

নবজাতকের বাবার অভিযোগ, একজন চিকিৎসক তাদেরকে বলেছিলেন, জন্মের সময়ই বাচ্চাটা মৃত ছিল। পরে একাধিক নার্সও একই কথা বলেন তাকে।

কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু স্বীকার না করে বাচ্চার হার্টে সমস্যার কথা জানায়। আর একজন চিকিৎসক ও নার্সের তথ্য নিয়ে জানতে চাইলে বলা হয়, ‘তারা এসব কিছু বুঝে নাকি?’

ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা স্কয়ার হাসপাতালে গেলে তাদেরকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।যদিও বলা হয়েছিল, ডাক্তার এসে কথা বলবেন, কিন্তু এক ঘণ্টারও বেশি সময় বসিয়ে রাখার পর কেউ কথা বলেননি।

শুক্রবার জন্ম নেয়া বাচ্চাটির মৃত্যুর বিষয়ে সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। আর দিনভর ঝগড়া, হাতাহাতি পর সন্ধ্যায় শিশুটিকে নিয়ে যান তার স্বজনরা। তারা জানান, শিশুটির মাথায় বড় ধরনের ক্ষতের চিহ্ন দেখেছেন তারা। এই ক্ষত কীভাবে হয়েছে, সে ব্যাখ্যাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে দেয়নি।

নবজাতকের বাবা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরিরত শাহবুদ্দিন টিপু জানান, শুক্রবার তার সন্তান হওয়ার আগেও নানা ঘটনা ঘটেছে। আর জন্মের পর শিশুটির হার্টে সমস্যা থাকার কথা বলে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়।

টিপুর অভিযোগ, শনিবার তার শাশুড়িকে একজন চিকিৎসক বলেন, ভূমিষ্ট হওয়ার পরই তার সন্তান মৃত ছিল। তারপরও তাকে আইসিইউতে নেয়ার কারণ জানতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু তারা এই কথা স্বীকার না করে বলে বাচ্চার হার্টে সমস্যা। তখন মেয়েটি বেঁচে থাকবে এমন আশায় তারা আর বাধা দেননি।

টিপু জানান, তার শাশুড়িকে ডাক্তাররা আরও বলেন, ‘শুকরিয়া জানান, আপনার মেয়েকে (নোভা) বাঁচাতে পেরেছি। লক্ষ টাকায় দিয়ে কখনও মেয়ের বাচ্চাকে বাঁচাতে পারতেন না।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে তার স্ত্রী তাসলিমা তারানুম নোভাকে স্কয়ার হাসপাতালে আসেন টিপু। সেখানে গাইনি বিশেষজ্ঞ রেনুমা জাহান তাদের বেশ কয়েকটি চেকআপ করিয়ে বলেন প্রসব ব্যাথা উঠলে হাসপাতালে আনতে। কিন্তু অন্য একজন চিকিৎসক এসে  বলেন, এখনই তার স্ত্রীকে ভর্তি করতে হবে। তার ব্যাথা উঠেছে।

টিপু ওই চিকিৎসকের কাছে জানতে চান, কীভাবে তিনি বুঝলেন ব্যাথা ‍উঠছে। তখন ওই ডাক্তার বলেন, ‘এটা বুঝবেন না।’

সন্ধ্যায় স্ত্রীকে ভর্তির পর রাতে নোভাকে প্রসব ব্যাথা উঠার ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতেও ব্যাথা উঠেনি। পরে শুক্রবার আবারও তাকে ইনজেকশন দিয়ে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে ডা: রাফিফা ও ডা: নাজিয়া তাদের জানান, বাচ্চা কিছুক্ষণের মধ্যে বের করা হবে। কিন্তু এটা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে তারা জানান, বাচ্চার হার্টে সমস্যা আছে আইসিইউতি রাখতে হবে।

‘এসময় আমার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে তাকে বলেছিল ওরা খুবই খারাপ ব্যবহার করেছে তার সাথে’-বলেন টিপু।

প্রসূতির মামা অবসরপ্রাপ্ত মেজর রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার ভাগ্নিকে সুস্থভাবে হাসপাতালে আনা হলেও তার লাইফ সাপোর্টে রেখে ব্যবসা করছে।’

রেজাউল করিম জানান, সোমবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে তারা সমাহিত করতে নিয়ে যান। এ সময় তার মাথায় ভারী কোনো কিছুর আঘাতের চিহ্ন ছিল।

প্রসূতি নোভার মামা বলেন, ‘আমরা আইসিউতে আমার ভাগ্নি ও তার মেয়েকে দেখতে যেতে চাইলেও তারা ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। এমনকি আমাদের হাসপাতালের বাইরে বের করে দেয়।’

এই ঘটনায় রোগীর স্বজনদের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডার সময় কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে গেলে হাসপাতাল কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হন।

ঘটনার সময় স্কয়ার হাসপাতালের হেড অব ম্যানেজমেন্ট রুল আলম উপস্থিত সাংবাদিকদের হাসপাতালের বাইরে যেতে বলেন।

মৃত শিশুকে আইসিইউতে রাখার বিষয়ে টিপু যে অভিযোগ করছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কয়ার হাসপাতালের এই কর্মকর্তা বলেন, পরে ডাক্তাররা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবেন। কিন্তু পরে কোনো চিকিৎসক এসে কথা বলেননি।

Comments

comments

Leave A Reply

Your email address will not be published.