স্টিভেন স্মিথের অসাধারণ সেঞ্চুরির পর হ্যাজেলউডের আঘাত

ক্রিকেট খেলাধুলা

প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের লিড কত রানের হয়, দ্বিতীয় দিন শেষে এই আলোচনা হলেও মহাকাব্যিক এক সেঞ্চুরিতে উল্টো অস্ট্রেলিয়াকেই লিড এনে দিলেন তিনি।

স্মিথের হার না মানা ১৪১ রানের ওপর ভর দিয়ে স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে স্কোরে জমা করে ৩২৮ রান। তাতে ২৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ে নেমে ঝড় তোলেন জশ হ্যাজেলউড। এই পেসারের তাণ্ডবে তৃতীয় দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড ২ উইকেটে ৩৩ রানে।

৫১২ ‍মিনিটের লড়াইয়ে স্মিথ খেলেছেন ৩২৬ বল। সঙ্গী পেলে ইনিংসটা আরও লম্বা করতেই পারতেন তিনি। তা না হলেও ক্রিকেট বিশ্ব আরেকবার দেখল স্মিথের চমৎকার ব্যাটিং। ঠাণ্ডা মাথায় তিনি সামলেছেন ইংলিশ পেসারদের। কাভার ড্রাইভ, পুল, কাট- প্রত্যেকটা শটেই ছিলেন তিনি দারুণ আত্মবিশ্বাসী। যে বিশ্বাসের জোরে একপ্রান্তে উইকেট হারালেও খেলে গেছেন নিজের খেলাটা। ইংলিশ বোলাররাও পারেননি তার উইকেটটি নিতে। শেষ পর্যন্ত নাথান লিওনের (৯) আউটে যখন শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস, তখন স্মিথের নামের পাশে ১৪১ রান। হার না মানা ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক সাজিয়েছেন ১৪ বাউন্ডারিতে।

স্মিথের সঙ্গে তৃতীয় দিন শুরু করে শন মার্শ হাফসেঞ্চুরি তুললেও বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি। ৫১ রান করে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ফেরেন প্যাভিলিয়নে। অনেক সমালোচনা হয়েছে যার দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে, সেই টিম পেইন পারেননি নির্বাচকদের আস্থার জবাব দিতে। ১৩ রান করে এই উইকেটরক্ষক ফিরে যান জেমস অ্যান্ডারসনের শিকার হয়ে। মিচেল স্টার্কও (৬) ফেরেন দ্রুত। তবে স্মিথকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন প্যাট কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস লম্বা হওয়ার পেছনে তার অবদানও অনেক। ১৩৯ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ১২০ বলে এই পেসার করেন ৪২ রান।

৩২৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করার পর শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই এলোমেলো ইংল্যান্ড। হ্যাজেলউড ঝড়ে ১৭ রানে তারা হারায় ২ উইকেট। হুক করতে গিয়ে ভুলটা করেন অ্যালিস্টার কুক। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক লং লেগে মিচেল স্টার্কের হাতে ধরা পড়েন ৭ রানে। ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আবার হ্যাজেলউডের আঘাত। এবার স্লিপে দাঁড়ানো স্মিথের তালুবন্দি করান ২ রান করা জেমস ভিন্সকে। এরপর দিনের বাকিটা অধিনায়ক জো রুট (৫*) কাটিয়ে দিয়েছেন মার্ক স্টোনম্যানকে (১৯*) সঙ্গে নিয়ে। ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

(তৃতীয় দিন শেষে)

ইংল্যান্ড: ৩০২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬ ওভারে ৩৩/২ (স্টোনম্যান ১৯*, কুক ৭, রুট ৫*, ভিন্স ২; হ্যাজেলউড ২/১১)।

অস্ট্রেলিয়া: প্রথম ইনিংসে ১৩০.৩ ওভারে ৩২৮ (স্মিথ ১৪১, মার্শ ৫১, কামিন্স ৪২, ওয়ার্নার ২৬; ব্রড ৩/৪৯, অ্যান্ডারসন ২/৫০)।