১২ কোটি স্টোকস, ১১ কোটির রায়না-পান্ডিয়া বনাম ২ কোটির সাকিব! কে এগিয়ে?

ক্রিকেট খেলাধুলা

অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে তো নিয়মিতই পারফর্ম করে যাচ্ছেন। ব্যাট হাতে ইনিংসগুলোকে খুব একটা বড় করতে না পারলেও বল হাতে বেশিরভাগ ম্যাচেই দলের প্রত্যাশা পূরণ করছেন সাকিব। চলুন তাহলে চলতি আইপিএলের দামি অলরাউন্ডারদের সঙ্গে তুলনা করে সাকিবের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করা যাক।

গত জানুয়ারির নিলামে সাকিবকে ২ কোটি রুপিতে কিনেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। চলতি আইপিএলের দামি ক্রিকেটারদের তালিকায় সাকিবের নাম একেবারেই নিচের দিকে। যেখানে বিরাট কোহলিকে ১৭ কোটি রুপিতে রেখে দিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মাকে ১৫ কোটি রুপিতে রেখে দিয়েছে চেন্নাই ও মুম্বাই।নিলাম থেকেই সাড়ে ১২ কোটি রুপিতে বেন স্টোকসকে কিনেছে রাজস্থান রয়্যালস। বুঝুন তাহলে তাদের সঙ্গে সাকিবের কত তফাত। তবে পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে কিন্তু আইপিএলের দামি অলরাউন্ডারদের সাথে খুব বেশি পার্থক্য নেই বাংলাদেশি তারকার।

চলতি আইপিএলে এখন পর্যন্ত (২৭ তারিখ কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ম্যাচের আগে) সাত ম্যাচ খেলে আট উইকেট দখল করেছেন সাকিব। ২৪ ওভার বোলিং করে রান দিয়েছেন ১৭২ অর্থাৎ ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৭.১৬ করে। সাকিবের চেয়ে দুটি উইকেট বেশি পেয়ে উইকেটশিকারীদের তালিকায় শীর্ষে মারকান্ডে।

বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও বেশ খেলছেন সাকিব। সাত ম্যাচের ছয় ইনিংসে ব্যাটিং করে ১১৭ রান করেছেন। গড় ২৩.৪০, স্ট্রাইকরেট ১২০। চলুন এবার চলতি আইপিএলের সর্বোচ্চ দামি তিন অলরাউন্ডারের পারফরম্যান্স দেখে নেয়া যাক।

বেন স্টোকস: নিলাম থেকে ইংলিশ অলরাউন্ডারকে সাড়ে ১২ কোটি রুপিতে কিনেছিল রাজস্থান রয়্যালস। কিন্তু এতো ‘দামি’ পারফরম্যান্স দেখাতে পারছেন না বেন স্টোকস। এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচের সব কটিতে ব্যাটিং করে রান করেছেন ১৪৭। গড় ২৪.৫০, স্ট্রাইকরেট ১২৬.৭২। ব্যাট হাতে যা একটু করেছেন, কিন্তু বল হাতে পুরো ফ্লপ ইংলিশ তারকা। ছয় ম্যাচে মাত্র একটি উইকেট তুলে নিতে পেরেছেন বেন স্টোকস।

হার্দিক পান্ডিয়া: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১১ কোটি রুপিতে রেখে দিয়েছে হার্দিক পান্ডিয়াকে। বল হাতে কিছুটা আলো ছড়ালেও ব্যাট হাতে ভালো করতে পারেননি ভারতীয় অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে পাঁচ ম্যাচ খেলে সবকটিতে ব্যাটিং করে রান করেছেন মাত্র ৪৮। সর্বোচ্চ ২২ করে এক ম্যাচে অপরাজিত ছিলেন। স্ট্রাইকরেট ৯৭.৯৫। বল হাতে পাঁচ ম্যাচে তুলে নিয়েছেন সাত উইকেট। হার্দিকের এই সাত উইকেটের বেশিরভাগই শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের।

সুরেশ রায়না: সুরেশ রায়নাকেও ১১ কোটি রুপিতে রেখে দিয়েছিল তার আগের দল চেন্নাই সুপার কিংস। রায়নাও অতো দামি পরফরম্যান্স দেখাতে পারছেন না। বল হাতে উইকেট পাওয়া তো দূরের কথা তাকে এখন পর্যন্ত বোলিং করারই সুযোগ দেননি চেন্নাই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।

ব্যাটিংয়েও যে খুব বেশি আলো ছড়িয়েছেন তেমনটা বলার সুযোগ নেই। পাঁচ ম্যাচ খেলে সবকটি ইনিংসে ব্যাটিং করে রান করেছেন ১২৯। ৫৪ করে এক ম্যাচে অপরাজিত ছিলেন, স্ট্রাইকরেট ১৩০.৩০।

এই তিনজনের পারফরম্যান্সে চোখ বুলালে হায়দরাবাদের মালিকপক্ষ হয়তো মনে মনে বলেও ফেলবেন ‘সস্তায় দামি জিনিসই পেয়েছি!’ এই তিন অলরাউন্ডারের চেয়ে সাকিবের পারফরম্যান্স খারাপ কোথায়।