১৫ মিনিট সব অন্ধকার!

বিনোদন

এবার ‘পদ্মাবতী’ ছবির পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টিভি ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইএফটিডিএ) আজ রোববার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচির ডাকা দিয়েছে। চলচ্চিত্র ও দূরদর্শনের সঙ্গে যুক্ত ২০টি সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ বিকেল সোয়া চারটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত সারা ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ১৫ মিনিট ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময় কোথাও কোনো শুটিং হবে না। স্টুডিওর শুটিং ফ্লোরের সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হবে। আজকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ম্যায় আজাদ হুঁ’।

আইএফটিডিএর নেতা অশোক পণ্ডিত বলেছেন, ‘ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এ ধরনের হুমকি মেনে নেওয়া হবে না। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শিল্পের স্বাধীনতা রয়েছে। প্রত্যেক পরিচালক নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে গল্প ভাবেন, ছবি তৈরি করেন। কিন্তু এখন যেভাবে এর বিরুদ্ধাচরণ করা হচ্ছে, তা নিন্দনীয়।’

অশোক পণ্ডিত আরও বলেন, ‘পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির মতো প্রত্যেক সৃজনশীল ব্যক্তির নিজের মতো করে ছবি তৈরির স্বাধীনতা আছে। বানসালি প্রথম সারির একজন পরিচালক। আমরা তাঁর পাশে আছি। ইদানীং যেভাবে নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা জানা নেই। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আশা করব, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এই সমস্যার সমাধান ঘটবে।’

‘পদ্মাবতী’ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় রানি পদ্মাবতীর একটি নাচ ও আলাউদ্দিন খিলজির স্বপ্নে রানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি দৃশ্য নিয়ে। যদিও পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি বারবার বলেছেন, দ্বিতীয় দৃশ্যটি ছবিতে নেই। তাতে ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বরং বিক্ষোভকারীরা দাবি তুলেছে, ছবি থেকে সব বিতর্কিত অংশ বাদ দিতে হবে, নইলে এই ছবি মুক্তি দেওয়া হবে না।

‘পদ্মাবতী’ ছবি নিয়ে এখন ভারতজুড়ে রাজনীতির অঙ্গনও উত্তাল। গতকাল শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পদ্মাবতী’র পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর হরিয়ানার এক বিজেপি নেতা তাঁর নাক কাটার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।