২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ে আর্জেন্টিনার সামনে এই ৫ টি বাধা

খেলাধুলা ফুটবল

আর মাত্র কদিন। অপেক্ষায় ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপের মাসকট ‘জাভিবাকা’। ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ফুটবলের মহোৎসবে মাঠ মাতাবেন বিশ্বসেরা তারকারা। প্রিয় দেশের পাশাপাশি প্রিয় খেলোয়াড়কে সমর্থন জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভক্তকুল। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাশিয়া এবং সৌদি আরবের ম্যাচ দিয়ে বাজবে বিশ্বকাপের দামামা। সেই সঙ্গে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ফুটবল উন্মাদনায় মাতবে বিশ্ব।

ফেভারিটের তালিকায় না রাখলে অন্যায় হয়ে যাবে। সেই দলটি আর্জেন্টিনা। আপনি বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে তারকায় ভরপুর কোনো সিনেমার সঙ্গে তুলনা ক্রতে পারেন। যেখানে এত তারকা থাকার পরেও অধরাই থেকে যায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। দলটিতে বিশ্বসেরা তারকার অভাব নেই। লিওনেল মেসি, সার্জিও আগুয়েরো থেকে শুরু করে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সব তারকার মিলনমেলা ঘটেছে দলটিতে। রাশিয়া বিশ্বকাপে এমন তারকার সমাহার আর কোনো দলে খুব একটা নেই। এত তারকার ভিড়ে সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার পাওলো দিবালা এবং অন্যতম তারকা মাউরো ইকার্দিকে ছাড়াই সম্ভবত রাশিয়া বিশ্বকাপে দল নিয়ে যেতে হবে সাম্পাওলিকে।

মাদ্রিদ ভিত্তিক জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কার এক প্রতিবেদনে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের প্রতিবন্দকতার কথা বলা হয়েছে। যা মেসিদের বিশ্বকাপ জয়ের পথে বড় বাধা হতে পারে বলে বিশ্বাস ইউরেপিয়ান ফুটবল বিশেষজ্ঞদের। আসুন জেনে নেই সেই বাধাগুলো কি?

কোচ
আপনি যদি বিশ্বকাপের অন্যান্য কোচদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার কোচ হোসে সাম্পাওলিকে তুলনা করতে চান তাহলে শুরুতেই আপনাকে ধাক্কা খেতে হবে। কারণ তিনি কখনই একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় খেলেন না। এটা ভালো, প্রতিপক্ষ আপ্নক্র বিষয়ে খুব বেশি জানতে পারে না। কিন্তু তারপরেও তো একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত। সাম্পাওলির চিন্তা ও কর্ম নানা মিশ্রনে ভরপুর। চাহিদা অনুযায়ী হাই-প্রেসিং এবং অ্যাটাকিং ফুটবলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না মার্কোস রোহো এবং নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর মত ফুটবলাররা। আরেকটি মজার তথ্য দেই আপনাদের, আর্জেন্টিনার কোচ কিন্তু চায়নি বিশ্বকাপের আগে স্পেনের মুখোমুখি হতে। হয়তো বুজতে পেরেছিলেন তাহলে তাদের সব দুর্বলতা ফাঁস হয়ে যাবে সবার সামনে!

ধারাবাহিকভাবেব ব্যর্থ সিনিয়ররা
আর্জেন্টিনার বর্তমান দলে এক মেসি ছাড়া বেশিরভাগ সিনিয়রও ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ। বিশেষ করে গঞ্জালো হিগুয়াইন, হ্যাভিয়ের মাসচেরানো এবং এভার বানেগা- এই তিন খেলোয়াড়ের খেলার মান ছিল খুবই নিচু মানের। ক্লাব ফুটবল দাপিয়ে বেড়ান কিন্তু আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে জড়ালেই যে কোন ভূতে পায়েব তাদের। আর সবচেয়ে বড় কথা এই তিনজনসহ আরও অনেক মূল খেলোয়াড়ের বিকল্প নেই কোচ হোসে সাম্পাওলির হাতে।

ইনজুরিতে জর্জরিত
পাওলো দিবালার নাম সবার মুখেই উচ্চারণ হচ্ছে। কিন্তু সামনে এগুনোর জন্য তিনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত নন। এছাড়া এডওয়ার্ডো সিলভিও কিংবা এনজো পেরেজও হয়তো ইনজুরি থেকে সেরে উঠে পুরোপুরি ফিট হলে সাম্পওলির দলকে কিছুটা শক্তি সঞ্চার করবে। এছাড়াও ছোটখাট ইনজুরিতে আছেন দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়।

খেলার সংস্কৃতি ও কৌশল
স্পেন-আর্জেন্টিনার ম্যাচটিই ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকার মধ্যে ফুটবল খেলার ব্যবধানটা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। গত ১০ বছর ধরে আইবেরিয়ান অঞ্চলের (স্পেন, পর্তুগাল প্রভৃতি দেশ) ফুটবল সংস্কৃতি কঠোর পরিশ্রম এবং বড় বড় বিনিয়োগের ওপর গড়ে উঠছে। আর তাতে আর্জেন্টিনার মত দেশের ফুটবলাররাই এই অঞ্চলের ফুটবল লিগগুলোতে এসে খেলছে। সেই সঙ্গে মাত্র আট বছরের ব্যবধানে ৬ কোচের অধীনে খেললে একটি শক্ত এবং নির্দিষ্ট লাইনআপ তৈরী হওয়া কঠিনই নয়, অসম্ভবও বটে।

মেসি নির্ভরতা
আর্জেন্টিনা যে মেসি নির্ভর দল তা নতুন করে বলা বা প্রমাণের কিছু নেই। এটা স্বচ্ছ কাচের মত পরিস্কার। তবে তিনি কি একা পারবেন আলৌকিক ঘটনার জন্ম দিয়ে বিশ্বকাপ জিততে। কারণ এটা যে মেসির দ্বারাই সম্ভব। কিন্তু জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং ব্রাজিলসহ অন্যান্য দলগুলো কী তাকে তা করতে দেবে?