বাংলাদেশি ফ্রীল্যান্সারদের সফলতার গল্প আল জাজিরায়

ফ্রিল্যান্সিং বাংলাদেশ

অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, অনলাইনে কর্মী সাপ্লাইয়ের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এরইমধ্যে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা বিশ্বব্যাপী বেশ নাম কুড়িয়েছেন।

দেশের মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশের বয়সই ২৫ বছরের কম হওয়ায় এই তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে ডিজিটাল দুনিয়ায় আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। তবে এরইমধ্যে বাংলাদেশ যে সফলতা অর্জন করেছে তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিয়মিত ফ্রিল্যান্সিং করেন।

ওই প্রতিবেদনে, আবু তাহের সুমন নামের এক বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারের সফলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ছাত্রবস্থায় কাজ শুরু করেছিলেন বলে উল্লেখ করে জানানো হয়, বর্তমানে তিনি বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ করছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ‍ও কানাডার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ করে তার প্রতিষ্ঠান। আর সেই প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা ২৭ জন।

প্রতিবেদনে গুগল গ্লাস স্টার্টআপ ও স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানি অগমেডিক্সের বিষয়ে তথ্য দেয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে বলা হয়, অগমেডিক্স বাংলাদেশ গুগল গ্লাস ব্যবহার করে অনেক বাংলাদেশি তরুণকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে বসে চিকিৎসকরা রোগীকে সেবা দেন। ওই সময়ে গুগল গ্লাস পরে থাকেন চিকিৎসকরা। আর সেটার মাধ্যমে রোগী ও চিকিৎসকের কথোপকথন শুনে বাংলাদেশে বসে অনলাইন মেডিকেল রিপোর্ট পূরণ করেন অগমেডিক্সের কর্মীরা।

দেশের জনসংখ্যার বিষয়ে ধারণা দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর দেশের মানুষের জন্য প্রায় ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা দরকার। তবে ফ্রিল্যান্সিং এক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।

অনেক বাংলাদেশি নারীর কাছেও এটা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তাবেন্দা হোসাইন নামের এক ফ্রিল্যান্সার গ্রাফিক ডিজাইনারের কথা।

তিনি বলেন, আমার বাচ্চা যখন ছোট ছিল তখন বাইরে গিয়ে কাজের সুযোগ ছিল না। তখন আমি ফ্রিল্যান্সিংয়ে ঢুকে পড়ি। এটা আমাকে আর্থিক স্বচ্ছলতা দিয়েছে।

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিও ছাত্রজীবনে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার প্রতিমাসে তার আয়ের পরিমাণ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করলেও দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।