এক বছর ধরে স্বামীকে খুজে বেড়াচ্ছেন তানিয়া

অসহায় মানুষদের পাশে আলোচিত সংবাদ

এক বছর আগে নিখোঁজ হওয়া স্বামীর সন্ধানে নানা দ্বারে ঘুরে ফিরছেন তানিয়া খানম নামের এক গৃহবধূ। চার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তানিয়া স্বামীর সন্ধান চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতাও চেয়েছেন। আর পুলিশ বলছে, ওই ব্যক্তির নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন ডিবিতে রয়েছে। তারা এটির তদন্ত করছেন।

জানা যায়, গত বছরের এক অক্টোরব রাত পৌনে বারোটায় অপহরণ হয় তানিয়া খানমের স্বামী ফারুক আজম সোবহান। রাজধানীর লালমাটিয়ার এ-ব্লক থেকে দুটি গাড়ি যোগে আসা ৫ থেকে ৬ ছয়জন ব্যক্তি সোবহান এবং তার গাড়িচালক আকাশকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

সোবহানের স্ত্রী তানিয়া ঢাকা টাইমসকে জানান, সেবাহান এবং তার গাড়ি চালক এক বছর আগে অপহরণ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মুক্তিপণ কিংবা কেউ এই অপহরণের দায় স্বীকার করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই। তাকে খোঁজার জন্য আমি কোনো জায়গা বাদ দেইনি। যত আমি সব জায়গায় গিয়েছি। থানা থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত সকলের কাছে সহযোগীতা চেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার চারটা সন্তান আছে। তাদের একটা ভবিষ্যৎ আছে। ওদের বাবাকে খুঁজে না পেলে ওদের জীবনগুলো এলোমেলো হয়ে যাবে।’

তানিয়ার ভাষ্য, তার স্বামী একজন প্রথম সারির ঠিকাদার ছিলেন। কোনো ব্যবসায়ীক কোন্দলও তার ছিলণ না তার। তবে তার স্বামীর সঙ্গে রুশদানা রহমান তমা নামের এক নারীর সম্পর্ক ছিল।

তিনি বলেন, ‘সোবহানের অপহরণের সঙ্গে তমা এবং তমার স্বামী জড়িত রয়েছে। রুশনাদা রহমান তমা নামের ওই নারী একজন চিকিৎসক।’

এদিকে অপহরণের দৃশ্যটি ধরা পড়েছিল ওই ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায়। কিন্তু ক্যামেরাটি ভবনের ভেতরের অংশে থাকার কারণে কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছে, অথবা গাড়ির নাম্বার নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিসিটিভির পাশাপাশি ঘটনাটি স্বচোখে দেখেন ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বাবু।

ঘটনার ১৫ দিন পরে পেনাল কোডের ৩৪১, ৩৬৫ ও ৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন অপহরণ হওয়া সোবহানের বাবা আব্দুস সামাদ (আলাউদ্দিন)। মামলার এজাহারে অপহরণের পেছনে রুশদানা রহমান তমা এবং তার স্বামী ইরফানুল বারী রুম্মান জড়িত রয়েছে এমন ধারণা পোষণ করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

রুশদানা রহমান তমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা টাইমসকে তিনি জানান, ফারুক আজম সোবহানকে তিনি এক সময় চিনতেন। তবে এবিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে তিনি রাজি হয়নি।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা  মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (এস আই) তারেক জাহান খান ঢাকা টাইমস বলেন, ‘আমরা মামলাটা নিয়ে তদন্ত করেছি। অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি ডিবিতে পাঠানো হয়েছে। এখনটি এই মামলাটি ডিবিতে আছে।’

ডিবিতে হস্তান্তরের পরেও আলোর মুখ দেখেননি সোবাহান অপহরন মামলাটি। ডিবি (পশ্চিম) পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজ আল আসাদ ঢাকা টাইমসকে জানান, নিখোঁজ ফারুক আজম সোবাহানকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে খোঁজার চেষ্টা চলছে।