রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য সুচিই দায়ী বলল জাতিসংঘ

অসহায় মানুষদের পাশে আলোচিত সংবাদ

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য দেশটির নেত্রী অং সান সু চি দায়ী বলে আবারও মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। এ সংকট সমাধানে এখনও সু চি কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় কড়া সমালোচনা করেছেন মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। মিয়ানমারের সঙ্গে যে দেশগুলো ব্যবসা বাণিজ্য বাড়াচ্ছে তাদেরও সমালোচনা করেন তিনি

এদিকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায় কিছু করছে না বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইনে নির্যাতনের জেরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা নির্যাতনের এ দায় দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি এ নিয়ে সু চি’র কড়া সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সঙ্গে সু চি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি এ সংকট নিয়ে ভুল জানেন, ভুল ধারণা পোষণ করেন। বছরের পর বছর ধরে রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হচ্ছে, তবুও তিনি কোনো ব্যবস্থা কোনোদিন নেননি। এ ইস্যুতে তার এখন কথা বলার সময় এসেছে।

সমালোচনার মধ্যেই মঙ্গলবার ইয়াংহি লি’র দেশ দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন সু চি। সফরে দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে খুব একটা আলোচনা হয়নি বলে জানায় গণমাধ্যম। কথা হয়েছে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে। তবে এ নিয়েও সমালোচনা করেছেন ইয়াংহি লি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে মুন কখনোই জোরালো বক্তব্য দেননি, যা কাম্য নয়।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায় শুধু মৌখিক আশ্বাসই দিচ্ছে, কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ফোরটিফাই রাইটসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাউকে রাষ্ট্রহীন করাও গণহত্যার সামিল। যুগে যুগে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করার মাধ্যমে তাদের প্রতি গণহত্যা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি।