সেনাবাহিনীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জনসমাগম করে মুড়ি বিতরণের ছবি নিয়ে ব্যস্ত সোনাগাজী পৌর মেয়র

অন্যান্য অপরাধ ও দুর্নীতি বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিনিধি : সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী ১০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে এটি যেন বাংলাদেশে ছড়িয়ে যেতে না পারে সেজন্য গত সোমবার (১৬ মার্চ) দেশের সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং তার পাশাপাশি বাংলাদেশে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় লকডাউন ঘোষণা করার সাথে সাথে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের এবং জনসমাগম ঠেকাতে মাঠে নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তারই ধারাবাহিতায় ফেনী জেলাতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কুমিল্লাস্থ ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের মেজর নাঈম রেজওয়ানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম পুরো ফেনী শহর এবং উপজেলা গুলোতে মাইকিং করে প্রবাসীদের হোম-কোয়ারেন্টাইন মেনে চলে জনসমাগম না করার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

তবে সেনাবাহিনী মাইকিং এর সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সোনাগাজীর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন সহ কয়েক জন ব্যক্তি ত্রাণ বিতরণের নামে জনসমাগম করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। যদিও পৌরসভার মেয়র কতৃক বলা হয়েছে সোনাগাজীতে কোনো ধরনের জনসমাগম না ঘটিয়ে সকলকে বাড়ির নিজ নিজ অবস্থানে থাকার জন্য এবং কারো খাদ্যের সংকুলান দেখা দেয়া মাত্রই পৌর মেয়রের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার জন্য, যোগাযোগ করা মাত্রই খাবার বাসায় পৌছে দেওয়া স্লোগান দিয়ে পৌরবাসীকে আশ্বাস দিয়ে ফেইজবুকে স্ট্রেটাসও দেওয়া হয়। আর সেখানে ভিন্ন চিত্র ধরাপড়ে সাংবাদিকদের ক্যামরায়।

গত (শুক্রবার ২৭ও২৮ মার্চ ) সোনাগাজী পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি পিকাপে করে বড় মুড়ির প্যাকেট, চাল,ডাল,আলুসহ ত্রাণ বহনকারী পিকাপটি পৌরসভা থেকে নিয়ে পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসমাগম করে ত্রাণ বিতরণ করেন মেয়র। আর অন্যদিকে কিছু লোক পিছু পিছু ছবি তুলার জন্য দৌড়াদৌড়ি করতেও দেখা যায় মেয়রের পিচে পিচে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনাগাজী পৌরসভার দুইটি ওয়ার্ডের কয়েকজন অসহায় মানুষ যারা দিনে এনে দিনে খায়,এমন কয়েকজনের সাথে পৌর মেয়রের ত্রাণ বিতরণে কি কি দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তারা জানান,একটা প্যাকেট পেয়েছি, তাতে কিছু চাল,ডাল,আলু এবং মুড়ি বেশী করে পেয়েছি এগুলোতো আমাদের দুইদিনেই শেষ হয়ে যাবে।তবে সাধারণ মানুষের চেয়ে তাদের পরিচিত লোকজনেই পাচ্ছে ত্রাণ। আরেক জন কে বাড়িতে না থেকে রাস্তায় কেন আসছে? জানতে চাইলে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমনের ঝুঁকি থাকলেও কিছু করার নেই, মেয়রের দরকার ছবি,দেখেছেন না ছবি তুলার জন্য সবাই কি অবস্থা করতেছে! এতো কিছুর মাঝে কি মেয়র সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ দিবে না ছবি তুলে ফেইজবুকে দিবে? টাকা যদি জমা থাকতো তাহলে এগুলো নেওয়ার জন্য আসতাম না।

সোনাগাজীর পৌর মেয়র সরকারি সিদ্ধান্ত ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেন জনসমাগম করে ত্রাণ বিতরণ করছেন, এই বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের কথা জানায় সরকারের রোগ তত্ত্ব ও গবেষণা ইন্সটিটিউট। দেশে এখন পর্যন্ত কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজন মারাও গেছেন। বিশ্বের ১৯৯টি দেশের কয়েক লাখেরও বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।