মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে আজ অনুষ্ঠিত হলো শীর্ষ ১০ ‘তরুন উদ্যোক্তা এ্যাওয়ার্ড ২০১৯’

ই-কমার্স প্রেরণা চিঠি সফলতার গল্প

আজ ২৭ নভেম্বর ২০১৯ রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো বি’ইয়া আয়োজিত প্রকল্প লার্নিং শেয়ারিং ও শীর্ষ দশ তরুণ উদ্যোক্তা এ্যাওয়ার্ড ২০১৯। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: আতিকুল ইসলাম, মেয়র ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থত ছিলেন জনাব গোকুল কৃষ্ণ ঘোষ, পরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, উপস্থিত ছিলেন বি’ইয়ার নির্বাহী পরিচালক জনাব আশফাহ হক, বোর্ড মেম্বার জনাব ওবায়দুর রব, প্রফেসর সৈয়দ ফকরুল হাসান মুরাদ, জনাব আহমাদুল হক, জনাব শাহারিয়ার সাদাত। অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন জনাব আব্দল মুয়ীদ চৌধুরী, প্রতিষ্টাতা চেয়ারপার্সন, বি’ইয়া।

বাংলাদেশ ইয়ূথ এন্টারপ্রাইজ অ্যাডভাইস এন্ড হেল্পসেন্টার- বি’ইয়া’র তরুণ উদ্যোক্তাদের অভিনয়ে মধ্য দিয়ে বেলা ১১ টায় একটি মনোমুগ্ধকর নাটকের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর নাটকের নির্দেশক, অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বি’ইয়া’র প্রোগ্রাম ম্যানেজারের জনাব মেহেদী হাসান কিংশুকের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বি’ইয়া’র নির্বাহী পরিচালক জনাব আশফাহ হক। তিনি বলেন, আমরা চাকরি প্রার্থীদেরকে চাকরিদাতায পরিণত করতে বদ্ধ পরিকর। সেই জন্য ১৮ থেকে ৩৫ বছরের তরুণ নারী-পুরুষকে বি’ইয়া উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং সহযোগিতা প্রদান করছে। কিন্তু এ উদ্যোগে বি’ইয়ার পাশে দাঁড়াতে হবে সকলকে ।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার যে স্বপ্ন তা তরুণদেরকে উদ্যোক্তায় পরিণত করার মধ্য দিয়েই বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্র এখন প্রশস্ত ও যুগোপযোগি। পরবর্তীতে কমিক রিলিফের সহযোগিতায় ৪ বছর মেয়াদী প্রকল্পের শিখন উপস্থাপন করেন জনাব ইভদাদ আহমেদ। প্রকল্প লার্নিং শেয়ারিং এ ৪ বছরের প্রকল্পের অগ্রগতি যেমন, ৩৭৫ জন উদ্যোক্তার বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ, ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণ চিত্র, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণে বি’ইয়ার সহযোগিতা এবং মেন্টরিং এর সফলতা উপস্থাপিত হয়। প্রকল্পের মূল্যায়নে দেখা গেছে তরুণরা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা পাওয়ার ফলে তরুণদের মধ্যে উদ্যোগ গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সৃষ্টিশীর ভ্যভসা বাস্তবায়িত হচ্ছে। একইভাবে মূল্যায়নটিতে তরুণদের জন্য ঋণ ব্যবস্থা সহজীকরণ, ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট স্থান, ট্রেড লাইসেন্স, তরুণদের জন্য বিশেষ ঋণ প্রভৃতি বিষয়ে নজর দেয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

বি’ইয়ার বোর্ড মেম্বার জনাব সৈয়দ ফকরুল হাসান বলেন, বি’ইয়া’র মাধ্যমে তরুণরা উদ্যোক্তা হতে পারছে, উদ্যোগকে টেকসই করতে পারছে। এ থেকেই প্রমাণিত হয় সঠিক প্রশিক্ষণ ও দিক-নির্দেশনা পেলে তরুণরা উদ্যোগ গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে পারে। জনাব ওবায়দুর রব বলেন, এখন সময় হলো তরুণদেরকে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করা। কমিক রিলিফের সহযোগিতায় ৪ বছরে ৩৭৫ জন তরুণ যেমন নিজেদের ব্যবসা শুরু করতে পেরেছে তেমনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখছে। আরো তরুণদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা বাড়াতে হবে। বি’ইয়া ওয়াইবিআই এর নেটওয়ার্কভুক্ত সদস্য হিসেবে উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে উল্লেখ যোগ্য কাজ করছে। আজকের এ মূল্যায়নের মাধ্যমে এটা পরিষ্কার যে বি’ইয়া তরুণদেরকে কার্যকরী ও টেকসই উদ্যোগ বা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে। এখন আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে আরো উদ্যোক্তা সৃষ্টি করার জন্য, দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনাব গোকুল কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, এই প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে বি’ইয়া পুরোপুরি সফল হয়েছে। আমি তাদের বেশ কিছু কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করেছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি এই প্রকল্প মূল্যায়নের ফলাফল সঙ্গতিপূর্ণ ও যথার্থ। এনজিও বিষয়ক ব্যুরো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ের অন্তভূক্ত হিসেবে আমরা উদ্যোক্তা উন্নয়নরে প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছি। অমাদের যেকোন সহযোগিতা বি’ইয়ার তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য খোলা আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব মো: আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি বি’ইয়ার কার্যক্রমের ফলাফল ও উপস্থাপনা দেখে। বি’ইয়া তরুণ উধ্যোক্তা উন্নয়নে যে কাজ করছে তা সর্তিই উল্লেখযোগ্য ও প্রসংশনীয়। তারা যে নাটক উপস্তাপন করেছে তা মূলত বর্তমান সমাজেরই চিত্র। বি’ইয়া’র এ উদ্যোগের ফলে তরুণরা উদ্যোক্তায় পরিণত হচ্ছে, বেকারত্ব যেমন লাঘব হচ্ছে তেমনিভাবে অন্যরাও উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হচ্ছে। সেই সাথে ব্যবসায় একজন সঠিক পরামর্শকের যে কী প্রয়োজন তা আমি আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে জানি। তাই অভিনন্দন জানাই সকল মেন্টরদেরকে যারা বি’ইয়ার সাথে উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পেোরেশনের মেয়র হিসেবে আমার দিক থেকে তরুণ উদ্যোক্তা ও মেন্টরদের উন্নয়নে যতটুকু সহযোগিতা করা যেতে পারে তা আমি সর্বাতœকভাবে করবো। আমি বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছি, যেখানে উধ্যোক্তাদের জন্য ব্যবস্থা থাকবে। সেক্ষেত্রে উদ্যোক্তা উন্নয়নের বি’ইয়া আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন উদ্যোক্তাবান্ধব মানুষ। তিনি চান তরুণরা চাকরির প্রত্যাশায় না থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করুক। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক। ২০৪১ সালের মধ্যে সুখি-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প নেই। পরিশেষে আজকে ৪ বছর মেয়াদী প্রকল্পের অন্তভূক্ত যে দশজন তরুণ উদ্যোক্তা শীর্ষ দশ তরুণ উদ্যোক্তা এ্যাওয়ার্ড ২০১৯ এবং সম্ভাবনাময়ী তরুণ উদ্যোক্তা এ্যাওয়ার্ড পেলো তাদের সকলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

এরপর সভাপত্বি বক্তব্যে বি’ইয়া’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন জনাব আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, ২০০৮ সালে চাকরি প্রার্থী হবে চাকরিদাতা লক্ষ্য নিয়ে বি’ইয়ার পথ চলা শুরু হয়েছিলো, আজ সে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে দেখে আমার খুব ভাল লাগছে। তিনি আরা বলেন, এ জন্য ওয়াইবিআই, কমিক রিলিফ ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদেরকে জানাই কৃতজ্ঞতা। বি’ইয়ার তরুণ উদ্যোক্তা, মেন্টর ও কর্শকর্তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের শিখন থেকে আমরা আরো উদ্যোক্তা উন্নয়নের প্রেরণা খুঁজে পেলাম, সেই সাথে কিভাবে তরুণদেরকে উদ্যোক্তায় পরিণত করা যায় বিভিন্ন বক্তার মুখে সেই আশাবাদও শুনতে পেলাম। সবশেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনাব মো: আতিকুল ইসলাম ও বিশেষ অতিথি জনাব গোকুল কৃষ্ণ ঘোষের উপস্থিতির জন্য তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন । উল্লেখ্য, সভাপতির বক্তব্যের পূর্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনাব মো: আতিকুল ইসলাম ৬ জন তরুণকে সম্ভাবনাময়ী উদ্যোক্তা ও দশজন তরুণ উদ্যোক্তাকে শীর্ষ দশ তরুণ উদ্যোক্তা এ্যাওয়ার্ড ২০১৯ এর ক্রেষ্ট, সার্টিফিকেট প্রদান করেন।